ফিফা সভাপতির পদত্যাগ চান লা লিগা সভাপতি তেবাস
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্পেনের লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে…
ওটিএন বাংলা ডেস্ক |
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল— রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ইসকন ভিক্ষু ও ধর্মীয় নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস অবশেষে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে এখনই তাঁর মুক্তি নিশ্চিত নয়, কারণ সরকার যদি হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে স্থগিতাদেশ চায়, তাহলে মুক্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।
আজ বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিনের এই আদেশ দেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল চিন্ময়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, চিন্ময় গুরুতর অসুস্থ এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রেখে দেওয়া অন্যায়। আদালত তখন তাৎক্ষণিকভাবে জামিন না দিয়ে আজ শুনানির দিন ধার্য করেছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদিঘী মোড়ে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের এক সমাবেশে ভাষণ দেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তিনি জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন। এ অভিযোগে বিএনপি নেতা ফিরোজ খান ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন, যাতে মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গোয়েন্দা শাখা চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করে এবং তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে জড়ো হয়েছিলেন চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানাতে। জনতার ওপর নির্বিচারে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সময় সংঘর্ষে এক আইনজীবী খুন হন। পরে ২১ জন হিন্দু নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।
২৬ নভেম্বর তাঁর জামিন আবেদন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত খারিজ করেন। এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে কোনও আইনজীবী যাতে মামলা না লড়েন, তার জন্যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল এবং চট্টগ্রামের কোন আইনজীবী চিন্ময় দাস কৃষ্ণের হয়ে মামলায় লড়তে পারেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করারও অভিযোগ উঠেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে অপূর্ব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি আইনজীবী দল চট্টগ্রামে আদালতে জামিনের জন্য শুনানি করেন গত ২ জানুয়ারি ২০২৫ এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতও জামিন নামঞ্জুর করেন।
এরপর চিন্ময় প্রভুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চায়, কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না?
আজ হাইকোর্টে জামিন আদেশের পর ওটিএন বাংলার সঙ্গে কথা বলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। তিনি জানান, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা নেই। সেক্ষেত্রে জামিন পাওয়ার পর তাঁর মুক্তিতে আইনত কোনও বাধা থাকার কথা নয়। তবে সরকার যদি আপিল বিভাগে স্থগিতাদেশ চায়, তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।”
আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাডভোকেট ভট্টাচার্য বলেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একজন দেশপ্রেমিক। তিনি প্রতিটি বক্তৃতার আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী ’—এই শ্লোক উচ্চারণের মাধ্যমে তিনি তাঁর সমাবেশের বক্তব্য শুরু করতেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পক্ষে আদালতে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই জামিন দিতে কোনও আপত্তি থাকা উচিত নয়।”
অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান, চিন্ময় প্রভুকে যে ধারাগুলোর আওতায় আটক করা হয়েছে তা দুর্বল এবং ভিত্তিহীন। আসল ঘটনার দিন চিন্ময় প্রভু যে জায়গায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তা ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে। তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করেছিলেন জাতীয় সংগীত গেয়ে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে, যা তাঁর দেশপ্রেমের প্রমাণ।
চিন্ময় প্রভুর মুক্তির সম্ভাবনায় তাঁর অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হলে আইনি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au