বিলাসবহুল শোরুম গুটিয়ে ৮ লাখ ডলার ঋণ ফেলে ফেরারি নিয়ে পাতায়ার পথে টিলম্যান। (ছবি: news.com.au)
মেলবোর্ন, ১৯ মে- সিডনির চকচকে কাস্টলেরি স্ট্রিটে এক সময় ঝাঁ-চকচকে শোরুম! একের পর এক রোলেক্স বিক্রি! দাম শুনলে মাথা ঘুরে যাবে — কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত। কিন্তু তারপর? হঠাৎ একদিন শোরুম বন্ধ, মালিক উধাও! এ যেন বাস্তব জীবনের ‘হাসলে কান্না লুকানো যায় না’ নাটক!
এই নাটকের নায়ক ইয়ান টিলম্যান, বিলাসবহুল ঘড়ি বিক্রির নামে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে এখন বিলীন, কিন্তু পাওয়া গেছে খোঁজ— সোজা থাইল্যান্ডের পাতায়ায়!
চকচকে শোরুম থেকে পাতায়ার নাইটক্লাবে!
গত সপ্তাহে নিউজ.কম.এইউ-কে পাঠানো এক ছবিতে দেখা যায়, সিডনির আলোচিত ঘড়ি ব্যবসায়ী ইয়ান টিলম্যান পাতায়ার সোমারসেট হোটেলে বিলাসে ব্যস্ত। স্থানীয় এক নারী জানান, সেপ্টেম্বর থেকে তিনি নিয়মিত থাইল্যান্ডে যাতায়াত করছেন, মাঝে মাঝে শুধু বাবা-মাকে দেখতে সিডনি ফিরছেন।
ওই নারী আরও বলেন, “এক নাইটক্লাবে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। তারপর থেকে ২৪ ঘণ্টাই একসঙ্গে থেকেছি। পরে জানতে পারি যে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় প্রতারণা করে পালিয়ে এসেছেন। মুখোমুখি বলি, এটা কি রকম কাণ্ড? দেশ থেকে পালানো কি কোনও রসিকতা?”
উত্তরে টিলম্যান নাকি বলেন, “WTF man, আমি তো এখানেই আছি! ফেরারি চালাচ্ছি, বাকি সব কথা ফালতু!”
১৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত, ৮ লাখ ডলারের মতো দাবির অঙ্ক!
২০২৩ সালের জুলাইতে তার “Watches R Us” শোরুম গুটিয়ে নেয়ার পর থেকেই বহু গ্রাহক টাকা ফেরত পেতে হন্যে হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ খুলে জোটবদ্ধভাবে অভিযোগ করছেন।
পার্থের ঘড়ি সংগ্রাহক প্যাট্রিক ব্র্যাডফোর্ড জানান, তিনি তিন মাসে $১,৫৮,০০০ পাঠিয়েছেন কিন্তু একটিও ঘড়ি পাননি! পুলিশ জানিয়েছে, এটা “সিভিল ম্যাটার”, তাই কিছু করা যাবে না।
“রোলেক্স দিয়েছি, কিন্তু সেটা নকল!”
তাসমানিয়ার মারিয়ান ওং এক বন্ধুর মাধ্যমে টিলম্যানের কাছ থেকে একটি রোলেক্স কিনেছিলেন, যার দাম ছিল $২৩,৫০০। প্রেমিককে প্রস্তাব দেওয়ার পর হঠাৎ ঘড়ি থেকে ‘টিক টিক’ নয়, বরং ‘ক্লিঙ্ক ক্লিঙ্ক’ শব্দ!
রোলেক্স সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে গেলে বলা হয় — ঘড়িটা নকল!
যখন তিনি টিলম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন টিলম্যান নাকি অভিযোগ তোলেন — “আপনি আসল ঘড়ি বদলে নকল লাগিয়েছেন!”
এমন অপমান আর সহ্য হয়নি মারিয়ানের। তিনি এনস্যাট (NSW Civil and Administrative Tribunal)-এ অভিযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত বিচারক বলেন, “টিলম্যান মিথ্যা বলছেন এবং ঘড়িটি কোথা থেকে এনেছেন, সে বিষয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অজুহাত দিচ্ছেন।” আদালত রায় দেন, পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে।
‘ইন্ডাস্ট্রির জন্য লজ্জাজনক ঘটনা’
টিলম্যানের সাবেক বিজনেস পার্টনার অ্যারন পোলুরা তাঁকে সরাসরি আখ্যা দিয়েছেন “একজন বোকা প্রতারক” হিসেবে। তিনি বলেন, “আমার তো এখন ভাল চলছে। তিনি যে ধরনের কাজ করেছেন, সেটা পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য অপমানজনক।”
ফেরারি, সুগার বেবি আর অবিশ্বাস
এখন টিলম্যান পাতায়ায় একের পর এক নতুন নারীর সঙ্গে দেখা যাচ্ছেন। এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হতেই আবার নতুন মুখে ফেরারির সিটে ভ্রমণ!
তবে গ্রাহকেরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন — যদি কখনও ফেরারি থামে এবং তিনি আদালতের মুখোমুখি হন।