লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোশলা বাজারে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নরসুন্দর পেশায় নিয়োজিত পরেশ চন্দ্র শীল ও তার ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীলকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটককৃতদের পরিবার দাবি করেছে, চুল কাটানোর পর অর্থ নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ আনা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২১ জুন) মো. নাজমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি চুল কাটাতে যান পরেশ চন্দ্র শীলের সেলুনে। চুল কাটানো শেষে অর্থ পরিশোধ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এর তিন দিন পর রবিবার স্থানীয় লোকজন সেলুনে গিয়ে পরেশ শীল ও তার ছেলেকে হেনস্তা করে এবং পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পর স্থানীয় আল-হেরা জামে মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, পরেশ চন্দ্র শীল নবী ও দাঁড়ি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন এবং এর আগেও এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। তবে মামলার সাক্ষী ও মসজিদের খতিব মো. জোবায়ের হোসেইন স্বীকার করেছেন, তিনি ও মামলার বাদী কেউই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন, কেবল অভিযোগকারীদের মুখে শুনে মামলা করেছেন।
পরেশ শীলের পুত্রবধূ দীপ্তি রানী শীল দাবি করেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষায়, “চুল কাটানোর টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়, পরে ছেলেটি দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। রোববার কয়েকজন এসে আমাদের দোকান ভাঙচুর করে, শ্বশুরকে মারধর করে এবং স্বামী বাধা দিলে তাকেও পেটায়। পরে দুজনকেই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সাজু মিঞা জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হলেও তদন্ত চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় ধর্ম অবমাননার প্রত্যক্ষ কোনো সাক্ষ্য মেলেনি। অনেকেই বলছেন, পরেশ শীল দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সুনামের সঙ্গে সেলুন পরিচালনা করে আসছেন এবং এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনো ওঠেনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। পরেশ শীলের পুত্রবধূ জানিয়েছেন, তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তবে কারা দিচ্ছে, তা তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আগেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। এই প্রেক্ষাপটে লালমনিরহাটের ঘটনাটিও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে।