জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি
মেলবোর্ন, ২৬ জুন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ চেয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত জামায়াতের কোনো কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সেই সবকিছুর জন্য তিনি ‘মাফ’ চেয়েছেন।
গত ২৭ মে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবার ক্ষমা চাওয়ার পর মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত একটি টকশোতে এসে এর ব্যাখ্যা দেন জামায়াত আমির।
‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ওই আলোচনায় তিনি বলেন, ব্যক্তি যেমন ভুল করে, তেমনি সংগঠনও ভুল করতে পারে এবং সেজন্য ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে কোনো ‘লজ্জা নেই’।
অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কারো যেমন ভুল হতে পারে, তেমনি সমষ্টিগতভাবে যে সংগঠন, সেই সংগঠনও ভুল করতে পারে। এক্ষেত্রে মাফ চাওয়ার মধ্যে কোনো পরাজয় নেই, লজ্জা নেই।”
আলোচনার শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন একটি দেশে হঠাৎ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং এক্ষেত্রে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য ইরানকে দায়ী করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন।
তার মতে, অন্য আরব দেশগুলোর ভূমিকা এ ক্ষেত্রে ‘দুর্বল’।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ইরানের পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলছে না—এমন আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার যদি এমন অবস্থান নিয়ে থাকে, সেটা ভালো কিছু নয়। ফিলিস্তিনের পক্ষে, ইরানের পক্ষে অবশ্যই আরও বেশি ভূমিকা নিতে হবে।”
আগামী নির্বাচন ও প্রবাসীদের ভোট
দেশের আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির জানান, তার দল প্রায় সব আসনেই প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে রেখেছে। তবে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হলে শরিকদের আসন ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত তারা।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি রয়েছে।”