বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মেলবোর্ন, ০১ জুলাই— প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তাদের মধ্যে টেলিফোনালাপ হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী এই আলোচনা ছিল উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং গঠনমূলক, যা দুই দেশের চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে।”
ফোনালাপে উভয় নেতা পরস্পরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ, আগামী সাধারণ নির্বাচন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সহায়তা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের দিকে সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং প্রধান রেমিটেন্স উৎস। আমরা আশা করছি শিগগির শুল্ক নিয়ে আলোচনা শেষ হবে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট মিস্টার ল্যান্ডাউয়ের সঙ্গে একটি চমৎকার বৈঠক করেছেন এবং তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউনূস বাংলাদেশে পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করার অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আমরা আপনার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছি, যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য কর্মসূচির প্রতি কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য একটি পদক্ষেপপ্যাকেজ চূড়ান্ত করা যায়।”
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য মার্কিন সমর্থন চেয়ে মোহাম্মদ ইউনূস পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আগামী বছরের প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তার সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান আলোচনা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে ফলপ্রসূ হবে।
তিনি বলেন, “ইলেকশন কমিশন তার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে কঠোর পরিশ্রম করছে, যা পূর্ববর্তী সরকার ধ্বংস করে ফেলেছিল। আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন।”
প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ দাতা দেশ হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে কাজ করছে।”
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই নেতা আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ের ওপরও আলোচনা করেন। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস মার্কো রুবিওকে বাংলাদেশে সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সরাসরি দেখতে পারেন। তিনি বলেন, “আপনার সফর আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”