হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- বাংলাদেশে হাম রোগের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন জাতীয়ভাবে…
মেলবোর্ন ১ জুলাই – থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য ফুকেত ও ক্রাবিতে একাধিক ইমপ্রোভাইজড বিস্ফোরক উদ্ধার ও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার “চলমান ঝুঁকি” নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়-মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী বারিসান রেভলুসি ন্যাশনাল (BRN)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই যুবক ফুকেত , ক্রাবি ও ফাং এনগা জেলায় ১১টি স্থানে বিস্ফোরক স্থাপন করেছিলেন। থাই সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, এসব ডিভাইস প্রাণঘাতী না হলেও পর্যটননির্ভর এলাকায় আতঙ্ক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে বসানো হয়েছিল।
ফুকেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের কাছে একটি বিস্ফোরক ডিভাইস উদ্ধারের পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর Smartraveller ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, “থাইল্যান্ডের যেকোনও স্থানে, এমনকি ব্যাংকক ও ফুকেতের মতো পর্যটন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর Smartraveller ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, “থাইল্যান্ডের যেকোনও স্থানে, এমনকি ব্যাংকক ও ফুকেতের মতো পর্যটন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক দুই সন্দেহভাজন ২০ বছর বয়সী এবং BRN-এর সদস্য। তবে থাইল্যান্ড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক গ্রেগ রেমন্ড বলেছেন, BRN সাধারণত দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশ পাটানি, ইয়ালা ও নারথিওয়াতে হামলা চালায়, ফুকেতের মতো উত্তরের পর্যটন এলাকায় নয়।
“এই ধরনের বিস্ফোরক পরিকল্পনা BRN-এর কাজ বলে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। এটি হয়তো অপেশাদার কারও প্রচেষ্টা,” তিনি মন্তব্য করেন।
ফুকেতের গভর্নর সোফন সুভান্নারাট বলেন, “বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী উদ্ধারকৃত কোনও সামগ্রীই প্রাণঘাতী নয়। এগুলো জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে বসানো হয়েছে।”
এদিকে BRN সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, “এটি দুই দশকের সহিংসতার পর এক নজিরবিহীন অঙ্গীকার। তবে এই অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়, BRN-এর উচিত যুদ্ধাপরাধ বন্ধ করা।”

২০০৪ সাল থেকে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সহিংসতায় ৭,৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে Deep South Watch জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, “থাইল্যান্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত। ব্যাংককসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিক্ষোভ হচ্ছে।”
সম্প্রতি হাজারো মানুষ ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী পাইতংতার্ন সিনাওয়াত্রার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ান পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কোনও ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য কয়েক সপ্তাহের জন্য সফর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক প্রাভিত রোজানাফ্রুক।
“আমি মনে করি না থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলোর একটি, তবে সতর্ক থাকা উচিত,” তিনি বলেন।
তথ্যসূত্র: ABC, Bangkok Post, Thai PBS, Smartraveller
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au