রাশিয়ার ইজেভস্ক শহরের একটি সামরিক কারখানায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মঙ্গলবার (১ জুলাই) অন্তত তিনজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন উডমুরতিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার ব্রেচালভ। হামলার খবর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হামলার লক্ষ্য ছিল ‘কুপোল ইলেকট্রোমেকানিক্যাল প্ল্যান্ট’, যেখানে টর ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার সিস্টেমসহ ওসা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন তৈরি হয়। বিবিসি ইউক্রেনকে এক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে দুটি দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালায়। তার ভাষায়, ‘‘এমন প্রতিটি বিশেষ অভিযানে শত্রুর আক্রমণক্ষমতা কমে এবং রাশিয়ার গভীর অঞ্চলেও সামরিক অবকাঠামো আর নিরাপদ থাকে না।’’
বিবিসির যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানার ছাদে বিস্ফোরণ ঘটছে ও কালো ধোঁয়া আকাশে উঠছে। হামলার পর ইজেভস্ক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যা কয়েক ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়। এর আগে গত নভেম্বরেও ওই কারখানায় ড্রোন হামলা হয়েছিল, তবে তখন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মাঠের পরিস্থিতি ও শান্তি আলোচনা
মস্কোও ইউক্রেনে হামলা জোরদার করেছে। সপ্তাহান্তে রাশিয়া রেকর্ড ৫৩৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে রাজধানী কিয়েভ ও পশ্চিমাঞ্চলের লভিভ শহরও রয়েছে। বিমান হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিহত এফ-১৬ পাইলট লেফটেন্যান্ট কর্নেল ম্যাকসিম উস্তিমেঙ্কোকে ‘হিরো অব ইউক্রেন’ উপাধিতে মরণোত্তর সম্মাননা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সুমি অঞ্চলে অগ্রগতি স্থবির হলেও মস্কো এখন পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রুশ গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তারা ওই অঞ্চলের একটি গ্রাম দখলে নিয়েছে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
মে মাস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন মধ্যে দুই দফা শান্তি আলোচনা হয়েছে, তবে ফলপ্রসূ কোনো চুক্তি হয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন গত সপ্তাহে নতুন করে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থান এখনো ‘সম্পূর্ণ বিরোধপূর্ণ’।
এদিকে জেলেনস্কি সোমবার বলেন, ‘‘পুতিন কূটনীতির নামে অর্ধেক বছর নষ্ট করেছেন। রাশিয়া যুদ্ধ থামানোর জন্য নয়, বরং নতুন অভিযান চালানোর পরিকল্পনায় আছে, যেখানে ইউরোপীয় ভূখণ্ডও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।’’ যুক্তরাষ্ট্রের দূত কিথ কেলোগ এক্সে মন্তব্য করেছেন, ‘‘রাশিয়া সময়ক্ষেপণ করতে পারছে না, কারণ তারা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।’’ মস্কো দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় জানায়, তারা কোনো বিলম্ব করতে চায় না এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানায়।