আগামী মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর ঝুলে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের অনীহার কারণে। নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরটি নির্ধারিত সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা এখন কার্যত নেই। অগাস্টের ১৭ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল ভারতের।
২ জুলাই(বুধবার) এই খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক কারণে আটকে আছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। দিল্লি মনে করছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সফর ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো বার্তা দেবে না। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বলেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে ভারতে ‘বিরূপ মনোভাব’ তৈরি হয়েছে, যা সফর আয়োজনের পক্ষে অনুকূল নয়।
ইতোমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সফর ‘রিশিডিউল’ করার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করেছে। প্রস্তাব করা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে আইপিএলের পরে এই সফর করতে। বিসিসিআই জানিয়েছে, তার আগে ভারতীয় দলের ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে সময় নেই।
ভারতীয় বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, তখন হয়তো রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাবে এবং সরকারের আপত্তিও থাকবে না। তবে এভাবে রাজনৈতিক কারণে সফর স্থগিত বা পেছানোর ঘটনা বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট সম্পর্কে প্রথম নজির হয়ে থাকল।
পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে, যেখানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একসঙ্গে খেলবে। তবে কর্মকর্তাদের মতে, দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ও বহুজাতিক টুর্নামেন্টের রাজনৈতিক গুরুত্ব ভিন্ন।
এর আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও গত বছর সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারত সফর করেছিল। কিন্তু তখন ভারতজুড়ে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো সিরিজ বাতিলের দাবি তোলে, যা নিরাপত্তা বাড়িয়ে সামলাতে হয়েছিল।
ভারত সরকারের মতে, অগাস্টের সফরে কোনো টেস্ট নেই, ফলে বাতিল হলেও ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনো প্রভাব পড়বে না। আর এখন সফর হলে রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকলেও, পেছালে তেমন কোনো ক্রিকেটীয় ক্ষতি হবে না।
বিসিসিআই আশাবাদী যে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে। বোর্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এক নয়। সম্পর্ক সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠেই ফিরব আমরা।”
এদিকে বোর্ডের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাজীব শুক্লা দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন চলতি মাসেই। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় দক্ষ শুক্লার নেতৃত্বে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলেই আশাবাদী বোর্ড কর্মকর্তারা।