উগ্রপন্থীদের হুমকিতে থমকে গেল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রীরাম মূর্তির নির্মাণ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশে নির্মাণাধীন দেশের সবচেয়ে বড় শ্রীরাম মূর্তিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৮১ ফুট উচ্চতার এই মূর্তির নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ…
বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় স্বামীকে আটকে রেখে তার প্রথম স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জানান, তিনি ঢাকায় বাবুর্চির কাজ করেন এবং তার দুটি স্ত্রী রয়েছেন। ঘটনার দিন শনিবার রাতে দ্বিতীয় স্ত্রীর ডাকে তজুমদ্দিনে তার বাসায় গেলে কয়েকজন মিলে তাকে আটক করে মারধর করে এবং চার লাখ টাকা দাবি করে। পরে রোববার সকালে প্রথম স্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলে টাকা দিতে না পারায় তাকে বেদম মারধরের পর বাসা থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং সেই সুযোগে তার প্রথম স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল হক জানান, সোমবার রাতে থানায় মামলার পর পরই একজন নারী আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়, তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
অভিযোগের পর উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি। একইসঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাসেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদীন সজীবকে বহিষ্কার করেছে। যদিও ছাত্রদলের বিবৃতিতে সরাসরি ধর্ষণের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তিনিও নিজেও বিএনপির কর্মী। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রমিক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের নাম রয়েছে। এ নিয়ে তজুমদ্দিন থানা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা মিন্টু বলেন, দোষীদের কাউকে রক্ষা করবে না বিএনপি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনার পর রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ওই দম্পতিকে আইনি সহায়তা নিতে পরামর্শ দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ সহযোগিতা চাইলে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায় এবং মামলা নেয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের কাছে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অপরাধই মুখ্য বিষয় বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au