লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা, কি ঘটেছিল
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর যুক্তরাজ্য সফরকে কেন্দ্র করে পূর্ব লন্ডনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত একটি…
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতে গোপনে প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পিয়ংইয়ং—এমন তথ্য জানিয়েছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা।
ইউক্রেনের দাবি, এর আগেও ২০২৪ সালের নভেম্বরে গোপনে অন্তত ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সময় ইউক্রেনের সেনাদের রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে ঢোকার পর সেখানেই রাশিয়ার পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল কোরীয় সেনারা। এতে প্রায় ৪ হাজার কোরীয় সেনা হতাহত হন বলে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের তথ্য।
সিএনএন হাতে পাওয়া ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছে, নতুন করে সেনারা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাশিয়ায় পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে উপগ্রহ চিত্রে রাশিয়ার ডুনাই বন্দরে রোপুচা ধরনের সেনাবাহী জাহাজ এবং উত্তর কোরিয়ার সুনান বিমানবন্দরে কার্গো বিমানের চলাচল ধরা পড়েছে—যা আগের মোতায়েনের সময়ও দেখা গিয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সেনাদের জন্য অস্ত্র ও সরঞ্জাম দিতে প্রস্তুত এবং তাদের রুশ বাহিনীর ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সেনারা রুশ অধিকৃত ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে।
গত ১৭ জুন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই শইগু পিয়ংইয়ং সফরে কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করেন। তখন ঘোষণা হয়েছিল, উত্তর কোরিয়া থেকে ১ হাজার মাইন অপসারণকারী এবং ৫ হাজার সামরিক নির্মাণকর্মী রাশিয়ায় পাঠানো হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, এই মোতায়েন জুলাই কিংবা আগস্টে শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ হাজার সেনা কিছুটা বেশি মনে হলেও উত্তর কোরিয়ার পক্ষে তা সম্ভব। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো জেনি টাউন বলেন, ‘‘১০–২০ হাজার সেনা বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। তাদের ধাপে ধাপে পাঠানো হতে পারে।’’ গুঞ্জন রয়েছে, এরই মধ্যে রুশ জেনারেলরা উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে এই সেনাদের প্রশিক্ষণও দিয়েছেন।
রুশ প্রশিক্ষকেরা জানিয়েছেন, ২৩–২৭ বছরের মধ্যে থাকা এই সেনারা শারীরিকভাবে সক্ষম এবং রুশ বাহিনীর মতোই কার্যকর। একটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, উত্তর কোরীয় সেনারা ড্রোন প্রতিরোধের জন্য শটগান চালানো শিখছে এবং রুশ সেনাদের সঙ্গে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ বলেছেন, ‘‘এত বিপুলসংখ্যক এলিট সেনা পাঠিয়ে কিম জং উন নিজের সরকারকেই ঝুঁকিতে ফেলছেন। এটি রাশিয়ার রিজার্ভ ফোর্সের সংকটও স্পষ্ট করছে।’’
এদিকে ইউক্রেনের সামরিক প্রধান জানিয়েছেন, পোকরভস্ক শহরের কাছে অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার রুশ সেনা জড়ো হয়েছে, যা বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিএনএন জানিয়েছে, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অন্তত ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৯০ লাখ গোলাবারুদ দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে এমন সহায়তা রাশিয়ার প্রতি উত্তর কোরিয়ার ‘রক্তঋণ’ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যবহার হতে পারে।
সব মিলিয়ে বিষয়টিকে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যেখানে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে রক্ত দিয়ে হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।
অথ্যসুত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au