বিশ্ব

মতামত: তিব্বতের পরিচয় রক্ষার লড়াই শেষ হয়নি

  • 12:52 pm - July 04, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৯৩ বার
দালাই লামা তাঁর ৯০তম জন্মদিন দুটি পৃথক তারিখে উদযাপন করবেন—একটি তিব্বতি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এবং অন্যটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৬ জুলাই। (এপি: অশ্বিনী ভাটিয়া)

মেলবোর্ন ৪ জুলাই- “আমি যখন প্রয়াত হব, তখনও একজন দালাই লামা থাকবেন – এটি নিশ্চিত।” বহির্বিশ্বের কাছে দালাই লামার এই বক্তব্য—তিনি মৃত্যুর পরও একজন উত্তরসূরি রেখে যাবেন—হয়তো খুব স্বাভাবিক মনে হতে পারে।
তিনি চতুর্দশ দালাই লামা, স্বাভাবিকভাবেই ভাবা হয়েছিল পনেরোতমও আসবেন।

কিন্তু এই অনুমান আসলে এই ঘোষণার গভীর তাৎপর্যকে আড়াল করে। দালাই লামার এই ঘোষণা একদিকে কোটি কোটি ভক্তকে সান্ত্বনা দিয়েছে, অন্যদিকে বেইজিংকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে তার উত্তরসূরি বাছাইয়ে হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।

ধর্মশালার তসুগলাখাং মন্দিরে দালাই লামার ৯০তম জন্মদিনের প্রথম দফার উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। (এপি: অশ্বিনী ভাটিয়া)

সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছেন—তিব্বতের পরিচয় রক্ষার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি।

চীনের চোখে ‘ভিক্ষুর ছদ্মবেশে নেকড়ে’
দালাই লামা তেনজিন গ্যাতসো তিব্বতের পরিচয় ও স্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ১৯৫৯ সালে তিব্বত থেকে পালিয়ে আসার পর তিনি শুধু আধ্যাত্মিক নেতা নন, সংস্কারক হিসেবেও ভূমিকা রেখেছেন।
উত্তর ভারতের ধর্মশালার মেকলিয়ডগঞ্জে নির্বাসিত সরকার গড়ে তোলেন, বিশ্বমঞ্চে তিব্বতিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

বেইজিংয়ের কাছে তিনি আজও শত্রুস্বরূপ—“ভিক্ষুর ছদ্মবেশে নেকড়ে” আখ্যা পেয়েছেন।

দালাই লামা আগে বলেছিলেন, ৯০ বছর বয়সে তিনি তিব্বতী জনগণ ও শীর্ষ লামাদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেবেন, এই প্রতিষ্ঠান অব্যাহত থাকবে কিনা।

এই সপ্তাহে, তিব্বতী ক্যালেন্ডার অনুসারে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি সুস্পষ্ট ঘোষণা দিলেন:


আমি নিশ্চিত করছি, দালাই লামার প্রতিষ্ঠান চালু থাকবে,”

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে যোগ করলেন, চীনা সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই প্রক্রিয়া চলবে। তিনি বলেন, তার ভবিষ্যৎ পুনর্জন্ম স্বীকৃতি দেওয়ার একমাত্র অধিকার গাদেন ফোড্রাং ট্রাস্টের, এবং সময় এলে তিনিই নির্দেশনা দেবেন।

ভক্তরা এই ঘোষণায় স্বস্তি ও আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।

দালাই লামা চীনের পক্ষ থেকে পরবর্তী দালাই লামার স্বীকৃতি হাইজ্যাকের যেকোনো প্রচেষ্টা রুখতে পদক্ষেপ নিয়েছেন। (এপি: অশ্বিনী ভাটিয়া)

ভক্তদের মনে ঝুলে থাকা প্রশ্ন
দশকের পর দশক ধরে তিব্বতি বৌদ্ধরা তাঁর কাছ থেকে এই নিশ্চয়তা চাইছিলেন।

তাদের শঙ্কা ছিল দুটি—এক, তিনি মারা গেলে এই প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হবে, ফলে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হবে; দুই, চীন নিজস্ব “পুতুল” দালাই লামা বসিয়ে তিব্বতের স্বাধিকারের সংগ্রামকে দুর্বল করবে। এই আশঙ্কা একেবারে ভিত্তিহীন নয়।
১৯৯৫ সালে দশম পাঞ্চেন লামার মৃত্যুর পর বেইজিং নিজস্ব পাঞ্চেন লামা নিয়োগ করে, দালাই লামার বাছাই করা ছয় বছরের শিশুকে অস্বীকার করে। সেই শিশু এরপর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

রীতিমতো প্রথা অনুযায়ী, দালাই লামা ও পাঞ্চেন লামা পরস্পরের পুনর্জন্ম স্বীকৃতি দেন। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বেইজিং এখন দালাই লামার উত্তরসূরি নিয়েও ঠিক একই রকম পরিকল্পনা করছে।

দালাই লামার এই ঘোষণা তিব্বতের পরিচয় রক্ষার চলমান সংগ্রামের এক শক্তিশালী স্মারক। (রয়টার্স: অনুশ্রী)

বুধবার, তার ঘোষণার পরপরই চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়ে দেয়, কোনো পুনর্জন্ম চীনের অনুমোদন ছাড়া বৈধ নয়।

এর অর্থ হতে পারে, দুটি দালাই লামা—একজন, যিনি তিব্বতিদের চোখে আধ্যাত্মিক নেতা; আরেকজন, যিনি বেইজিংয়ের আনুকূল্যে নিয়োজিত।

দালাই লামা বহু আগেই এই পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছিলেন।
২০১১ সালে তিনি বলেন:


“যেসব চীনা কমিউনিস্টরা প্রকাশ্যে জন্ম-মৃত্যুর পুনর্জন্মের ধারণা অস্বীকার করে, তাদের দ্বারা এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা চরম দ্বিমুখিতা। এটি তাদের রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী।”

এই সপ্তাহে ধর্মশালার ধর্মীয় সম্মেলনে শীর্ষ তিব্বতি বৌদ্ধ নেতারা আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ ও সমর্থন জানিয়েছেন।
তারা চীনের হস্তক্ষেপকে “রাজনৈতিক এবং অবৈধ” আখ্যা দিয়ে বলেছেন:


পুনর্জন্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এবং তা কোনোদিনই গ্রহণ করব না।”

তিব্বত ও বিশ্বের প্রতি বার্তা
১৯৫১ সালে তিব্বত দখলের পর থেকে বেইজিং তিব্বতি বৌদ্ধধর্মকে রাষ্ট্রের হাতিয়ারে পরিণত করার নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, চীন মঠে নজরদারি, ভিক্ষুদের দেশপ্রেমমূলক শিক্ষায় বাধ্য করা ও নিজেদের পছন্দের ধর্মীয় নেতা বসানোর মতো কাজ করছে। এই কর্মকাণ্ড অনেকাংশে শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়নের সাথে তুলনীয়।

বেইজিংয়ের এই চাপের মধ্যেও তিব্বতি বৌদ্ধরা এই সপ্তাহে প্রার্থনা ও উৎসবে দালাই লামার দীর্ঘায়ু কামনা করছেন।

৯০ বছর বয়সেও তার প্রভাব অটুট। তবে সামনে পথ দুর্গম। এই ঘোষণার মাধ্যমে দালাই লামা আবারও জানিয়ে দিলেন—পুনর্জন্ম প্রক্রিয়ার কর্তৃত্ব তাঁরই হাতে থাকবে। তিব্বতের পরিচয় ও সংগ্রাম তাঁর জীবনের পরেও বহমান থাকবে।

এটি তাঁর ভক্তদের জন্য অনুপ্রেরণা, আর বেইজিংয়ের জন্য স্পষ্ট বার্তা—তিব্বতের পরিচয় রক্ষার লড়াই শেষ হয়নি।

এই শাখার আরও খবর

সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল জামালপুরের প্রবাসী যুবক শামীমের

মেলবোর্ন,০৬জুন-সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার এক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক। নিহত শামীম হোসেন (৩২) উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুস…

ঈদুল গাদিরে দুই হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিলেন মোজতবা খামেনি

মেলবোর্ন,০৬জুন-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে দুই হাজারের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা মওকুফ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। শুক্রবার ইরানের বিচার…

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির দরজা সবসময় খোলা: উপাচার্য

মেলবোর্ন,০৬জুন-তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা…

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জাতীয় দলে ফিরছেন সালাউদ্দিন, কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন

মেলবোর্ন,০৬জুন-আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং স্টাফে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচিং স্টাফে জনবল সংকট দেখা দেওয়ায় আবারও জাতীয় দলের…

বউকে বাঁচাতে গিয়ে শাশুড়ির মৃত্যু, কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল দুজনের

মেলবোর্ন,০৬জুন-কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তার শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখরাশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের এক…

চার সীমান্ত দিয়ে পুশ–ইন চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি ও স্থানীয়রা

মেলবোর্ন,০৬জুন-লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au