ভারত-দক্ষিণ এশিয়ার বাড়তি চাহিদায় নতুন আশার আলো দেখছে অস্ট্রেলিয়ার খনি খাত
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- চীনের ইস্পাত শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার প্রভাব যখন বৈশ্বিক কাঁচামাল বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, তখন ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল ইস্পাত শিল্পকে…
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও শুল্ক নীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে চলেছেন। আগামী ৭ জুলাই সোমবার একই সঙ্গে ১২টি দেশের কাছে পারস্পরিক শুল্কহার আরোপের নোটিফিকেশন পাঠাবেন তিনি। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে। তবে এই তালিকায় বাংলাদেশ আছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৯০ দিনের শুল্কবিরতির পর এবার একতরফা শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যেসব বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হয়নি, তারাও এই শুল্ক বৃদ্ধির আওতায় পড়বে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ভারত, জাপান, চীনসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্যও বাড়তে পারে শুল্কের হার।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ শতাংশ বেস শুল্ক বহাল থাকবে। তবে ১ আগস্ট থেকে এটি সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। শুল্ক বৃদ্ধির চূড়ান্ত সময়সীমা ধরা হয়েছে ৯ জুলাই। এই সময়ের মধ্যে কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি হলে সেই দেশের জন্য শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকবে।
কারা ঝুঁকিতে?
যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আংশিক সমঝোতায় পৌঁছেছে, তাদের জন্য কিছু ছাড় দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের জন্য ১০ শতাংশ ভিত্তি শুল্ক পরিবর্তন হবে না। ভিয়েতনামকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছাড়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং মার্কিন পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকবে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, ব্রাজিল, মেক্সিকো, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো শুল্ক বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই দেশগুলোকে চিঠির মাধ্যমে ‘গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান’-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিকল্প রেখেছে।
ট্রাম্প নিজেই বলেন, ‘‘চিঠি পাঠানো ভালো, আলোচনা নয়।’’ এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন, একতরফা চাপের কৌশলই এবারও বাণিজ্য আলোচনার প্রধান অস্ত্র হবে।
বিশ্ববাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, স্বল্পমেয়াদে এত বড় শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আবার দীর্ঘমেয়াদে ট্রাম্পের নীতিতে বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
৭ জুলাই চিঠি পাঠানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সঙ্গে আংশিক সমঝোতা হলেও বাকি দেশগুলোর জন্য কড়া শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশ থাকছে কি না, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানায়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au