ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে ব্রিকসের ১৭তম সম্মেলনে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই-
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে শুরু হওয়া ব্রিকস জোটের ১৭তম সম্মেলনের প্রথম দিনেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে জোটের নেতারা। গাজায় দ্রুত, স্থায়ী ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে তারা বলেছে, ইসরায়েলি সেনাদের ফিলিস্তিনের দখলকৃত এলাকা থেকে ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জোটের ১১টি দেশ।
রোববারের সম্মেলনের প্রথম দিনের এই বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় মানবিক বিপর্যয় বন্ধে যুদ্ধবিরতির জন্য সব পক্ষকে সদিচ্ছা দেখাতে হবে। কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আলোচনার প্রতি সমর্থন জানায় ব্রিকস।
ব্রিকসের এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো—রাশিয়া, ভারত, ব্রাজিল, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইথিওপিয়া—বিশ্বের অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে।
ইরান প্রসঙ্গে ব্রিকসের উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে ইসরায়েলের হঠাৎ হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আক্রমণ নিয়ে। গত জুনে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে গড়ায়।
সম্মেলনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হুমকি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিলে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক বসান, যা পরে সাময়িক স্থগিত করা হয়। ১ আগস্টের মধ্যে চুক্তি না হলে এসব শুল্ক আবার কার্যকর করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এমনকি ব্রিকসের ‘আমেরিকাবিরোধী নীতির’ সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ওপর বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক বসানোর কথাও বলেছেন।
ব্রিকসের নেতারা একে ‘অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের শুল্ক বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য হুমকি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং আজ বলেছেন, বাণিজ্য ও শুল্কের লড়াইয়ে কেউ জয়ী হয় না এবং সংরক্ষণবাদ অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ দেখায় না।
বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্রিকস এই সম্মেলনে শান্তি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও ন্যায়সংগত বাণিজ্যের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। গাজা, ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংকট নিরসনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব মোকাবিলায় এই জোটের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৫ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের ১৭তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয় জোটের ১১টি দেশ। গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিকস দ্রুত ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সম্মেলনে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলারও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিকস। তারা একে ‘অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারী’ বলেও উল্লেখ করে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে ব্রিকসের ‘আমেরিকাবিরোধী নীতির’ সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর পণ্যে আরও ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যদিও কী ধরনের নীতিকে তিনি আমেরিকাবিরোধী বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি। চীনসহ একাধিক দেশ ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স