শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- রাজধানীতে আলোচিত ঘটনার পর দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম অবশেষে জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত…
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই- ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদে প্রখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এর ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর দাঁড়িয়েছে ৪৮.৫।ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর (IF) হলো একটি পরিমাপ, যা নির্দিষ্ট বছরে কোনো সাময়িকীর গড় প্রবন্ধ কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, তা দ্বারা নির্ধারিত হয়। কোনো সাময়িকীর গুরুত্ব বা অবস্থান বোঝাতে এই পরিসংখ্যান ব্যবহৃত হয়।
২০২৫ সালের ১৬ জুন নেচারের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে, নেচারের সকল গবেষণা প্রবন্ধে স্বচ্ছ পিয়ার রিভিউ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৬ জুনের পর নতুন জমা পড়া যেসব প্রবন্ধ প্রকাশিত হবে, সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিভিউয়ারদের মতামত ও লেখকের উত্তর প্রকাশিত হবে।
নেচার ২০২০ সাল থেকে লেখকদের এই সুযোগ দিয়ে আসছিল যে, চাইলে তাদের পিয়ার রিভিউ ফাইল প্রকাশ করা হবে। নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকী ২০১৬ সাল থেকেই এ ধরনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করেছে। তবে এতদিন নেচারের লেখকরা এটি “অপ্ট ইন” করতে পারতেন। এবার থেকে নতুন নীতি অনুযায়ী, নেচারে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই রিভিউ রিপোর্ট ও উত্তর যুক্ত হবে।
এর মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেচারের অধিকাংশ প্রবন্ধের সঙ্গে প্রকাশিত রিভিউ ফাইলও যুক্ত হবে। রিভিউয়ারদের পরিচয় গোপন রাখা হবে যদি না তারা নিজেরাই প্রকাশ করতে সম্মত হন। কিন্তু লেখক ও রিভিউয়ারের আলোচনা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নেচারের দাবি, “বিজ্ঞানের ব্ল্যাক বক্স” খুলে এই স্বচ্ছতা আনাই আমাদের লক্ষ্য, যাতে বিজ্ঞান প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা বাড়ে।
সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, “প্রকাশিত কোনো গবেষণা প্রবন্ধ মূলত লেখক, রিভিউয়ার ও সম্পাদকের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার ফসল। এই আলোচনায় প্রবন্ধের স্পষ্টতা ও ফলাফলের দৃঢ়তা বাড়ে। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। যদি রিভিউয়াররা নাম প্রকাশে রাজি থাকেন, তাদের অবদানও প্রকাশ পাবে।”
বিশেষত, নবীন গবেষকদের জন্য এটি খুবই সহায়ক হবে। কারণ তাদের পেশাগত উন্নতির জন্য এই প্রক্রিয়ার ভিতরের কাজ জানা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত রিভিউ রিপোর্ট বিজ্ঞানের সাথে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক জোরদার করবে। এতে বোঝা যাবে, কোনো ফলাফল বা সিদ্ধান্ত কীভাবে এসেছে।
নেচার মনে করে, অনেকেই বিজ্ঞানকে চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় কিছু বলে ভাবেন। অথচ নতুন প্রমাণ বা তথ্যের আলোয় বিজ্ঞান ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়। গবেষকরা তাদের ফলাফল নিয়ে সবসময় আলোচনায় থাকেন। কিন্তু এই আলোচনা প্রবন্ধের মধ্যে থাকে না এবং প্রায়ই বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক যোগাযোগে প্রকাশ পায় না।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় এক ক্ষণিক উদাহরণ তৈরি হয়েছিল, যখন সারা বিশ্বের মানুষ প্রায় সরাসরি এই গবেষণা প্রক্রিয়ার সাক্ষী হয়েছিল। সংবাদপত্র, টিভি ও সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ফলাফল ও প্রমাণ নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্ক করেছেন। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবকিছু আগের মতো গোপন প্রক্রিয়ায় ফিরে গেছে।
নেচার আশা করছে, নতুন স্বচ্ছতা নীতি অন্তত আংশিকভাবে এই চর্চা ভাঙতে সাহায্য করবে।
প্রসঙ্গত, নেচার ১৯৭৩ সাল থেকে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধে আনুষ্ঠানিক পিয়ার রিভিউ চালু করেছিল। তবু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই আলোচনা গোপন রাখা এখনো প্রচলিত রীতি। এতে বৃহত্তর রিসার্চ কমিউনিটি কিংবা সাধারণ মানুষ খুব কমই জানতে পারে কীভাবে এই প্রক্রিয়া চলে।
নেচারের মতে, পিয়ার রিভিউ প্রবন্ধের মান উন্নত করে। লেখক ও রিভিউয়ারের এই বিনিময় বৈজ্ঞানিক নথির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত, যেমনটি এটি গবেষণা ও তার সম্প্রসারণের কেন্দ্রবিন্দু।
নেচারের এডিটোরিয়াল অবলম্বনে- প্রদীপ রায়, সম্পাদক ওটিএন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au