প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটিতে প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ…
ঢাকা, ১২ জুলাই-
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের (এসইএআরও) পরিচালক সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে হেলথ পলিসি ওয়াচের খবরে জানানো হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস সংস্থার এক সংক্ষিপ্ত অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সায়মা ওয়াজেদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডব্লিউএইচওর সহকারী মহাপরিচালক ক্যাথারিনা বেম। বেম আগামী মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ভারতের নয়াদিল্লিতে এসইএআরও কার্যালয়ে যোগ দেবেন।
তবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রথম আলোকে জানানো হয়েছে, তারা এ বিষয়ে কেবল শুনেছে; আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি বা নির্দেশনা এখনো পায়নি। জাতিসংঘের দিল্লির একটি সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সায়মা ওয়াজেদকে চার মাসের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, তিনি আঞ্চলিক পরিচালক হওয়ার প্রচারের সময় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ ধারা (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি) ও ৪৭১ ধারা (জাল দলিল ব্যবহার)-এর লঙ্ঘন।
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একটি অনারারি পদে রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। এই দাবি তিনি ডব্লিউএইচওতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে ব্যবহার করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য প্রায় ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৮ লাখ ডলার) সংগ্রহ করেছেন, যা কীভাবে ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে মামলায় বিস্তারিত বলা হয়নি।
এসব ঘটনায় সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় (প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশ্যে অর্থ বা সম্পত্তি হস্তান্তর) অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং এসব অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারছেন না।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। হাসিনা জনরোষের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, এসইএআরওর আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে মেয়েকে বসানোর জন্য হাসিনা নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছিলেন। এ পদে সায়মার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় দায়িত্ব গ্রহণের আগেই, যার সূত্র ধরে দুদক চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্ত শুরু করে।
সুত্রঃ হেলথ পলিসি ওয়াচ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au