প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটিতে প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ…
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই-
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিজ দেশের জনগণের ওপর নির্যাতনে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিউবা সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া একের পর এক পদক্ষেপের সর্বশেষ সংযোজন এটি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ দিচ্ছে। এই ঘোষণা এসেছে কিউবায় ২০২১ সালের ঐতিহাসিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের চার বছর পূর্তির দিনে।
২০২১ সালের জুলাইয়ে হাজার হাজার মানুষ কিউবার রাস্তায় নেমে খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ঘাটতি এবং অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এটিকে কিউবার ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভ হিসেবে ধরা হয়। সেই আন্দোলনে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, একজন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছিলেন। এটি ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে হওয়া কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কিউবা সরকারের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলভারো লোপেজ মিয়েরা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাজারো আলবার্তো আলভারেজ কাসাসের নামও রয়েছে। সেই সঙ্গে কিউবার বিচার বিভাগ ও কারাগারের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষকে অন্যায়ভাবে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ আছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যখন কিউবার সাধারণ মানুষ খাবার, পানি, ওষুধ ও বিদ্যুৎ–সংকটে ভুগছে, তখন দেশটির সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে।
এর জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো কিউবার জনগণ বা দেশটির নেতৃত্বের মনোবল ভাঙতে পারবে না।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাভানায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিককে তলব করে। কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হস্তক্ষেপ’-এর প্রতিবাদ জানাতেই তাকে তলব করা হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্য যে, ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কিউবার ওপর বাণিজ্যিক অবরোধ চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া কিউবার ভিন্নমতাবলম্বী নেতা হোসে ড্যানিয়েল ফেরেরকে নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ফেরের জীবিত থাকার প্রমাণ এবং সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি দাবি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে এখনো প্রায় ৭০০ জন মানুষ কিউবার কারাগারে বন্দী আছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই সংখ্যা ৩৬০ থেকে ৪২০–এর মধ্যে হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au