প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটিতে প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ…
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই-
কম্বোডিয়ার ইতিহাসের ভয়াবহ এক অধ্যায় হিসেবে পরিচিত খেমার রুজ শাসনামলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় যুক্ত করেছে। এই স্থানগুলো হলো ফনম পেনের তুয়ল স্লেং গণহত্যা জাদুঘর, কামপং চনাং প্রদেশের এম-১৩ কারাগার এবং রাজধানী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চোয়েং এক হত্যাক্ষেত্র।
তুয়ল স্লেং গণহত্যা জাদুঘর এক সময়ের একটি স্কুল ভবন, যা ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত গোপন জেরা ও নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল। এখানে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষকে বন্দি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই ভয়াবহতার প্রমাণ হিসেবে এখনো আছে বন্দিদের ছবি, নথি ও কক্ষগুলোর করুণ চিহ্ন।
এম-১৩ কারাগার ছিল খেমার রুজের প্রথম দিকের এক বন্দিশিবির, যা ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল। এখনও এখানে বন্দিদের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তগুলোর চিহ্ন দেখা যায়, যা সেই সময়ের নিষ্ঠুরতার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
সবচেয়ে পরিচিত স্থান চোয়েং এক হত্যাক্ষেত্র। তুয়ল স্লেং থেকে আনা বন্দিদের এখানে হত্যা করে গণকবরে ফেলে দেওয়া হতো। এখানে প্রায় ৮ হাজার ৮৯৫টি মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। বর্তমানে এক স্মৃতিস্তম্ভে সেই কঙ্কালগুলো সংরক্ষিত আছে, যা দর্শনার্থীদের সেই ভয়াবহ অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এই তিনটি স্থানকে ইউনেস্কোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে শুধু কম্বোডিয়ার জনগণের বেদনার স্মৃতি নয়, বিশ্ব ইতিহাসের এক মর্মান্তিক অধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে শান্তির গুরুত্বের কথা নতুন করে তুলে ধরেন।
সম্প্রতি চোয়েং এক হত্যাক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক ভিডিওরুম ও এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ইতিহাসকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গণহত্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষা পাবে এবং সহিংসতা থেকে শান্তির পথে এগিয়ে চলার বার্তা পাবে।
কম্বোডিয়ার জন্য এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে দেশটির প্রাচীন নিদর্শন যেমন অঙ্কোর, কোহ কের, প্রেহা বিহার ও সাম্বো প্রেই কুক ইউনেস্কোর তালিকায় যুক্ত হলেও, এবারই প্রথম কোনো সাম্প্রতিক সংঘাত-সংশ্লিষ্ট স্থান এই তালিকায় স্থান পেল।
এই স্বীকৃতি শুধু অতীতকে স্মরণ নয়, বরং সেই ভয়াবহ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তি, সহনশীলতা আর মানবাধিকারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au