বিশ্ব

খেমার রুজের হত্যাযজ্ঞের তিনটি ঐতিহাসিক স্থান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায়

  • 8:03 pm - July 12, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১২৪ বার
কম্বোডিয়ার চোয়েং একের খুলি, যা খেমার রুজ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার স্থান এবং গণকবর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল; ছবিঃ দ্য গার্ডিয়ান

মেলবোর্ন, ১২ জুলাই-

কম্বোডিয়ার ইতিহাসের ভয়াবহ এক অধ্যায় হিসেবে পরিচিত খেমার রুজ শাসনামলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় যুক্ত করেছে। এই স্থানগুলো হলো ফনম পেনের তুয়ল স্লেং গণহত্যা জাদুঘর, কামপং চনাং প্রদেশের এম-১৩ কারাগার এবং রাজধানী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চোয়েং এক হত্যাক্ষেত্র।

তুয়ল স্লেং গণহত্যা জাদুঘর এক সময়ের একটি স্কুল ভবন, যা ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত গোপন জেরা ও নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল। এখানে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষকে বন্দি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই ভয়াবহতার প্রমাণ হিসেবে এখনো আছে বন্দিদের ছবি, নথি ও কক্ষগুলোর করুণ চিহ্ন।

এম-১৩ কারাগার ছিল খেমার রুজের প্রথম দিকের এক বন্দিশিবির, যা ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল। এখনও এখানে বন্দিদের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তগুলোর চিহ্ন দেখা যায়, যা সেই সময়ের নিষ্ঠুরতার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
সবচেয়ে পরিচিত স্থান চোয়েং এক হত্যাক্ষেত্র। তুয়ল স্লেং থেকে আনা বন্দিদের এখানে হত্যা করে গণকবরে ফেলে দেওয়া হতো। এখানে প্রায় ৮ হাজার ৮৯৫টি মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। বর্তমানে এক স্মৃতিস্তম্ভে সেই কঙ্কালগুলো সংরক্ষিত আছে, যা দর্শনার্থীদের সেই ভয়াবহ অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এই তিনটি স্থানকে ইউনেস্কোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে শুধু কম্বোডিয়ার জনগণের বেদনার স্মৃতি নয়, বিশ্ব ইতিহাসের এক মর্মান্তিক অধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে শান্তির গুরুত্বের কথা নতুন করে তুলে ধরেন।

সম্প্রতি চোয়েং এক হত্যাক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক ভিডিওরুম ও এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ইতিহাসকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গণহত্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষা পাবে এবং সহিংসতা থেকে শান্তির পথে এগিয়ে চলার বার্তা পাবে।

কম্বোডিয়ার জন্য এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে দেশটির প্রাচীন নিদর্শন যেমন অঙ্কোর, কোহ কের, প্রেহা বিহার ও সাম্বো প্রেই কুক ইউনেস্কোর তালিকায় যুক্ত হলেও, এবারই প্রথম কোনো সাম্প্রতিক সংঘাত-সংশ্লিষ্ট স্থান এই তালিকায় স্থান পেল।

এই স্বীকৃতি শুধু অতীতকে স্মরণ নয়, বরং সেই ভয়াবহ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তি, সহনশীলতা আর মানবাধিকারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এই শাখার আরও খবর

কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে লস্কর কমান্ডার নিহত

ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের বাডগাম জেলার ইউসমার্গ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) কমান্ডার ইয়াসির নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার গোয়েন্দা…

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপের দেশগুলো সরিয়ে নিচ্ছে সোনার মজুদ

চলতি সপ্তাহে উত্তর আমেরিকা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গুরুতর কোনো সংকট…

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে চেয়ার কিনতে গিয়ে তৃতীয় ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে আহত

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে চেয়ার কেনার পর এক ব্যক্তি আকস্মিক ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলাকারীকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে,…

কুঠার দিয়ে হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে

অস্ট্রেলিয়ার গিপসল্যান্ডের টাইয়ার্স শহরে একটি বাড়িতে কুঠার দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে এক বৃদ্ধসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষকে জীবন সংকটাপন্ন অবস্থায়…

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে, ফের গোরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নিয়ে পুনরায় দাফনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকার…

পার্বত্য চট্টগ্রামে কি ভারতকে হারানোর কৌশল নিয়েছিল পাকিস্তান?

১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর। কোনো গুলি ছোড়া ছাড়াই ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au