মতামত

যুগে যুগে আমাদের সামরিক বাহিনী

  • 9:08 pm - July 17, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৮ বার
যুগে যুগে আমাদের সামরিক বাহিনী। ছবিঃ সংগৃহীত

একটি দেশে সামরিক বাহিনী গঠন করা হয়, বহিঃশত্রু থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য। তাদের জন্য সংগ্রহ করা হয় আধুনিকতম অস্ত্র। সাহসে ক্ষিপ্রতায় তারা ঝাপিয়ে পড়বে বিদেশী শত্রুদের উপর। রক্ষা করবে দেশমতৃকাকে। জীবন বাজি রেখে তারা লড়ে যাবে এটাই তাদের শপথ।

অথচ স্বাধীনতার পরে আমরা কীভাবে পেয়েছি আমাদের আর্মিদের? মোটাদাগে বলতে গেলে জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যাসহ কয়েকটি অপকর্ম ছাড়া তাদের কোনো অর্জন নেই। স্বাধীনতার পরে ভারতের সাথে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হয়, যাতে বহিঃশত্রুদের আক্রমণ এলে ভারত বাংলাদেশকে রক্ষা করবে এমন প্রতিশ্রুতি থাকে। মনে হতে পারে এটা কেমন চুক্তি। ভারত যদি আক্রমণ করে?

কিন্তু দেখুন স্বাধীনতার পর একটি ভঙুর রাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে গেলে অহেতুক ব্যয় পরিহার করা ছিলো জরুরি।  বসিয়ে বসিয়ে সামরিক বাহিনীর জন্য অঢেল খরচ একটি প্রয়োজনীয় কাজ ছিলো। এছাড়া অস্ত্র ক্রয়, তাদের প্রশিক্ষণসহ যাকিছু কাজ, তা শান্তির কিছু নয়। অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশকে গড়ে তুলতে হলে অস্ত্র বা সামরিক বাহিনী নয়, বরং জ্ঞান বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ভালোবাসা দিয়েই দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টা চলছিলো সেদিকেই। কিন্তু তাঁকে হত্যা করে সেই প্রচেষ্টার আগুনে পানি ঢেলে দেয়া হয়। দেশের সর্বময় ক্ষমতা চলে যায় সামরিক বাহিনীর হাতে। তারপর সংস্কৃতিহীন ধর্মীয় আশ্রয়ে চলতে থাকে একটি দেশ।  স্বাধীনতার সমস্ত আকাঙ্খা ভূলুণ্ঠিত হয়। এক সামরিক অফিসার থেকে অপর সামরিক অফিসারের হাতে যায় দেশ। যখন জ্ঞানে, বিজ্ঞানে, প্তজ্ঞায় একটি দেশ শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথ ধরে এগোবে, তখন জলপাই রঙের কাপড় দেখে আর ভারী বুটের শব্দ শুনেই আমাদের দিন যায়। মানুষের অধিকার,  মানুষের সভ্যতা ভারী অস্ত্রের ভয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। দেশের উন্নয়নের কিছুই আমাদের চোখে পড়ে না।

বলে রাখা ভালো সামরিক অফিসার মেজর জিয়াও হত্যা হন অপর সামরিক অফিসারদের হাতেই। বার বার তাদের হাতেই বাংলাদেশ রক্তাক্ত হয়েছে। শুধু রক্তাক্ত হয়নি, তারা দেশের অগ্রযাত্রাকে কানাগলির দিকে নিয়ে গিয়েছে। তাদের বুটের নিচে বার বার থেতলে গিয়েছে স্বপ্নময় বাংলাদেশ। 

ব্রিটিশ আর্মি আইন থেকে বেরিয়ে ভারত তার আর্মি আইনে পরিবর্তন এনেছে। সময়ের সাথে সাথে আধুনিক হয়েছে তাদের আর্মি। অথচ পাকিস্তান আমল এবং তার পরে বাংদেশের আর্মিদের জন্য সেই মধ্যযুগীয় আইন বলবত রয়েছে। তারা তাদের জীবনের উদেশ্য করে নিয়েছে একবার ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে বিদেশ গমন। তারপর সেই টাকা দিয়ে ভাবনাহীন জীবন পার। তারা বিদেশী শত্রু না পেয়ে বার বার দেশের মানুষকেই আঘাত করেছে। রক্তাক্ত করেছে দেশকে। দেশের মানুষের রক্তশ্রমে কেনা অস্ত্র দিয়ে তারা বার বার গুলি করেছে দেশের মানুষকেই। যাদের টাকায় কেনা গুলি, বিদ্ধ করেছে তাদের বুককেই। কী করুণ এই দৃশ্যপট!  কী বেদনাময় এইসব ঘটনা।

যখন সমস্ত পৃথিবী প্রগতির পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের সেনাবাহিনীর মগজে বসত করছে রক্ষণশীলতার অন্ধকার।  তারা দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ভুলে হয়ে উঠছে জামায়াত-পন্থি।

আজকাল সেনাবাহিনীর ছোট অফিসার থেকে সৈনিকদের মধ্যে জামায়াতের প্রভাব বেশি। বেদনায়, হতাশায় মানুষের হৃদয় থেকে মুছে যায় স্বদেশের ধারণা। গণভবনের দরজা খুলে দেয়া হয়, সংসদের সবগুলো দরজা খুলে দেয়া যায়। এভাবে বাংলাদেশকে তুলে দেয়া যায় দালালদের হাতে।   তখন গুলিকে সাপোজিটার বানিয়ে ব্যবহার করলেন, আর গোপালগঞ্জে দালালদের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভের মুখে তাদের মনে হলো বহিঃশত্রু?  তাদের বুককে করতে হলো রক্তাক্ত? একদল নিরস্ত্র মানুষ,  একজন আটক হওয়া যুবক- তাকে গুলি করে হত্যা করে আপনারা কী বোঝাতে চান? মানুষের পৃথিবীতে এইসব পশুর শক্তি বেশিদিন টেকে না।

এইসব জ্ঞানহীন,  প্রজ্ঞাহীন মধ্যযুগ অনেক আগেই পার হয়ে এসেছে সভ্য সমাজ। আপনারা সেই আলো থেকে বঞ্চিত। সেই শান্তির বাণী আপনাদের অস্ত্রের সম্মুখভাগে লেখা নেই। বহিঃশত্রু আক্রমণ এলে আপনারা কী করবেন, আমরা ভাবতে পারি। দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যাওয়া কোনো সিদ্ধান্তে আপনাদের মাথাব্যথা নেই। অথচ একজন  নিরস্ত্র মানুষকে আটকের পর তাকে গুলি করে হত্যা করতে হয়! এইসব হত্যার বিচারও নাই। কি নির্মম এক সময় এসে দাঁড়িয়েছে জাতির সামনে! নিষ্ঠুরতম প্রতিটি দিন। চারপাশে মবের রাজত্ব।

হিন্দুরা ঘরবাড়ি মন্দির হারাচ্ছে, ধর্ষিত হচ্ছে- সেদিকে আপনাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। মর্মপীড়া নেই। জাতীয় জীবনে এইসব অন্ধকারের ইতিহাস কালো অক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে। মানুষ বলবে এটা ছিলো এক অন্ধকার যুগ। আর আপনারা হবেন সেই অন্ধকারের সন্তান।

লেখক- কবি ও প্রাবান্ধিক

নোট- উল্লিখিত মতামত লেখকের নিজস্ব, এবং প্রতিষ্ঠানের অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে না।

এই শাখার আরও খবর

ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো নিয়ে শাহবাগে উত্তেজনা, ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে একজনকে মারধর

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে ঢাকার শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে…

১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ হিন্দু খুন, মন্দিরে বিষ্ফোরণ, সংখ্যালঘু নির্যাতনের পুরনো চেহারায় বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে পুরনো উদ্বেগ আবার সামনে চলে এসেছে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত একাধিক সহিংস ঘটনায় হিন্দু…

কুমিল্লায় শনিপূজা চলাকালীন বোমা বিষ্ফোরণ, আহত অন্তত ৪

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরে শনিপূজা চলাকালে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার…

ইরানে আজ রাতেই ‘কঠোর আঘাত’ হানার হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা নতুন লক্ষ্য খুঁজছে ইরান

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, শনিবার ইরানের…

চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au