নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই-
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার পর এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরজুড়ে চলছে কঠোর কারফিউ, রাস্তাঘাট ফাঁকা, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন, আহত অন্তত ৪৫ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ জেলায় কারফিউ জারি করে প্রশাসন। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং জানানো হয়, নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সাময়িকভাবে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে।
গত বুধবার এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত সদর উপজেলার কংশুর, পৌরপার্ক, জেলা কারাগার চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষ হয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ এনসিপির। সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়ি, ইউএনওর গাড়ি, জেলা প্রশাসকের বাসভবন ও বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে শহরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। খুলনা থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি দলও নিরাপত্তায় যুক্ত হয়েছে। শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এখনও ছড়িয়ে আছে আগের দিনের সংঘর্ষের চিহ্ন—ইট-পাটকেল, বাঁশ ও প্রতিবন্ধক সামগ্রী।
ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
হামলায় নিহত চারজন ছাড়াও আহত হয়েছেন প্রায় ৪৫ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে, শহরে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারফিউর কারণে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, বিডা ও ইউএনডিপির এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে এবং হামলাকারীরা শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে।
বর্তমানে গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর উপস্থিতি এবং কারফিউর কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হলেও, প্রশাসনের দাবি—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও আতঙ্ক কাটেনি।