শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই-
গোপালগঞ্জে সহিংসতার জেরে জারি হওয়া কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে। এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। এ সময় কিছু দোকান খোলা হয়, মানুষ জরুরি প্রয়োজনে চলাফেরা করে। তবে অধিকাংশ মার্কেট ও বাজার বন্ধ ছিল। শহরের ফল ব্যবসায়ী রতন সাহা বলেন, “তিন দিন দোকান খুলতে না পেরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফল পচে গেছে। পরিস্থিতি যেন দ্রুত স্বাভাবিক হয়, এটাই চাই।”
সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা শুরু হয় বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে, যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাদের ওপর হামলার পর গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় নিষিদ্ধঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপরই কারফিউ জারি করা হয়।
ওই দিনের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে নিহতদের পরিবার। অন্যদিকে লাশের ময়না তদন্ত না করে দ্রুত দাফন ও সৎকারের জন্য বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সদর থানায় ৪৫ জন, মুকসুদপুরে ৬৬ জন, কাশিয়ানীতে ২৪ জন, টুঙ্গিপাড়ায় ১৭ জন এবং কোটালীপাড়ায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপিনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহম্মেদ আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৪০০-৫০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৬ জুলাই সকালে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কের উলপুর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। ছাত্রলীগের নেতাদের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে মারধর, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে পরিদর্শক আহম্মেদ আলী বিশ্বাসসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।
বর্তমানে গোপালগঞ্জে যৌথবাহিনী টহল ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।