খেলা

আজ শুরু বাংলাদেশ ও পাকিস্তান টি টোয়েন্টি সিরিজ

  • 4:46 am - July 20, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৪১ বার

সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন ২০ জুলাই

সংবাদ সম্মেলনের জন্য অনুশীলন শুরুর নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক আগেই মাঠে হাজির লিটন কুমার দাস। ড্রেসিং রুম থেকে বেরিয়ে লম্বা সময় ধরে দেখলেন মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট। ফেরার পর আবারও প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের সঙ্গে মিলে উইকেটের কাছে দাঁড়িয়ে সারলেন লম্বা আলোচনা।

সংবাদ সম্মেলনে লিটনকেও বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরই দিতে হলো মিরপুরের উইকেট নিয়ে। বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাবনা, উইকেট যেমনই হোক না কেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই দলের লড়াই হবে সমানে-সমান।

মিরপুরে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ম্যাচের আগের দিন দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্য, পাকিস্তান সিরিজ, সামনের এশিয়া কাপসহ নানান বিষয়ে কথা বলেন লিটন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয়েছেন। তাদের বিপক্ষে আবার খেলবেন। তবে মাঝে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ জিতেছেন। তাই এখন ভাবনাটা বদলে গেছে কিনা?

লিটন: পাকিস্তানে যখন খেলতে যাই, একই চিন্তাধারা ছিল, জেতার জন্য খেলব। দুর্ভাগ্যবশত জিততে পারিনি। কিছু ভুল দকরেছি, তাই ফল আনতে পারিনি। তবে শ্রীলঙ্কা সিরিজে প্রথম ম্যাচ হারার পর ভালোভাবে কামব্যাক করেছি। অবশ্যই আমাদের প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভেতরে আত্মবিশ্বাস জন্মেছে।

তবে একইসঙ্গে এখন ভিন্ন কন্ডিশন, ভিন্ন দল। তাই পার্টিকুলারলি ওই দিনে ওইভাবেই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আত্মবিশ্বাসটা আপনাকে সাহায্য করবে। একই সময়ে অবস্থানটা ধরে রাখার জন্য আপনার মনোযোগটা কেমন আছে, সেটাও অনেক বেশি জরুরি হবে সামনের ম্যাচের জন্য।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতার পর বলেছিলেন, মিরপুরের উইকেট বা কন্ডিশন এরকম নাও হতে পারে। তারপরও আজকের উইকেট দেখার কী মনে হয়েছে যে, পাকিস্তানকে শুরু থেকেই হারানোর মতো মানসিক অবস্থানে আছেন আপনারা?

লিটন: যে কোনো দলকে হারানোর মতো মানসিকতা আমাদের আছে। আমরা সেই চেষ্টাই করব। তবে আপনাকে নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তার মানে এই না যে, হোম কন্ডিশন বলে আমরাই ভালো ক্রিকেট খেলব। আগেও বলেছি, পাকিস্তান ভালো দল। তাদের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই বিপিএল খেলে থাকে। তারাও সেই কন্ডিশনটা সম্পর্কে জানে। আমরা চেষ্টা করব, ভালো ক্রিকেটটা খেলার।

মিরপুরে সবশেষ বিপিএলে সন্ধ্যার ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় সংগ্রহ ১৫০ রানের বেশি ছিল। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আবার সবশেষ পাঁচ ম্যাচের গড় ১২৫ রানের আশপাশে। আজকের উইকেট দেখে কী মনে হচ্ছে, বিপিএলের মতো উইকেট পাবেন নাকি বৃষ্টির কারণে পিচটা পড়া কঠিন হবে?

লিটন: আমার ক্রিকেট অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় এখানে (বিপিএল ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানের তফাত) দুইটা বিষয়। আমরা যখন বিপিএলটা খেলি, একটা ইনিংস থাকে যেখানে শিশির পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন ব্যাটিং করাটা সহজ হয়ে যায়।

আর বিপিএলে আমার মনে হয় না, প্রত্যেক দলে ৫টা মানসম্পন্ন বোলার থাকে। তাই ২-১টা বোলারকে টার্গেট করলে রানটা বেড়ে যায়। তবে জাতীয় দল ভিন্ন জায়গা। প্রতিটি দলে ৫-৬টা মানসম্পন্ন বোলার থাকে। আমার মনে হয়, হাই স্কোরিং না হলেও খেলাটা জমবে খুব। দুই দলই কাছাকাছি থাকবে।

আগামী মাসে ভারত যেহেতু আসছে না, তাই এশিয়া কাপের আগে এটি শেষ সিরিজ। এই সিরিজে আপনারা কি একই দল নিয়ে খেলবেন নাকি বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করবেন?

লিটন: নির্দিষ্ট দিন, নির্দিষ্ট কন্ডিশনের ওপর সিদ্ধান্ত নেব (একই একাদশ নাকি বেঞ্চের শক্তি দেখা) আমাদের দলের বেঞ্চের যে শক্তি আছে, সবাই খেলার মতো সামর্থ্যবান। আমরা টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে ঠিক করব, কোন সময় কাকে খেলানো যায়। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করব।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান সিরিজ খারাপ যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কায় একটা মোমেন্টাম পেয়েছেন। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক হিসেবে এটা জরুরি ছিল কিনা?

লিটন: অধিনায়ক হিসেবে হোক বা ব্যাটসম্যান হিসেবে, প্রত্যেকটা সিরিজই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন ব্যাটিংয়ে যাই, তখন তো আমি ব্যাটসম্যান থাকি, অধিনায়ক থাকি না। আমার দায়িত্ব হচ্ছে ব্যাটিং করা, রান করা। প্রত্যেক ম্যাচে আমার এটাই চিন্তা থাকে। যত দিন ক্রিকেট খেলি, যদি ভবিষ্যতেও অধিনায়ক থাকি, একই চিন্তা থাকবে। চেষ্টা করব, ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতে।

জিনিসটা হচ্ছে, এই মুহূর্তে ভবিষ্যৎ অতটা দেখাটা ঠিক না। কারণ এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ এখনও অনেক দূর। আমার মনে হয়, যে সিরিজগুলো আমরা খেলি… যেহেতু শ্রীলঙ্কায় আমরা একটা ভালো সিরিজ গেছে পুরো দলের। আমরা চেষ্টা করব সেই আত্মবিশ্বাস যেন ধরে রাখতে পারি মিরপুরেও।

এরপর আমাদের হাতে সময় থাকবে। আবার ক্যাম্প করব, পরবর্তী সিরিজ খেলব। আলাদা একটা পরিকল্পনা থাকবে। অবশ্যই পরিকল্পনা তো আছেই যে বিশ্বকাপ আছে, বড় টুর্নামেন্ট। এর আগে এশিয়া কাপ আছে। তবে এর আগে কিছু জিনিস যে… আপনি এক সঙ্গে তো ১০ ধাপ এগোতে পারবেন না। এক-দুই-তিন করে এগোতে হবে। সেই ধাপগুলো হচ্ছে এই জায়গা। আমরা চেষ্টা করব ওই ধাপগুলো পূরণ করতে।

আপনি বলেছিলেন, ব্যাটিং উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ খেলবে আর বোলিং উইকেটে শেখ মেহেদি হাসান। কালকের ম্যাচে কে খেলবে?

লিটন: দুজনের সম্ভাবনাই খুব বেশি। আমার মনে হয়, আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কালকেই দেখতে পারবেন।

টি-টোয়েন্টি দলে পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিংয়ে তানজিদ হাসান আর বোলিংয়ে শেখ মেহেদি হাসান কতটা ভ্যালু যোগ করে?

লিটন: কোনো সন্দেহ নেই, একজন ওপেনারকে তো ব্যাটিং ভালো করতেই হবে। শুধু (তানজিদ) তামিম না, আমার মনে হয় বাংলাদেশে যারাই ওপেনার আছেন, (পারভেজ হোসেন) ইমনও কিছু কিছুদিন ধরে ওপেন করছে, দুই-একটা ম্যাচ খুবই ভালো ইনিংস খেলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একশও মেরেছে, বড় অর্জন। প্রত্যেকটা ওপেনার… ওপেনার না শুধু, যে ব্যাটসম্যান যাবে তারই রোল হচ্ছে ইনিংসটা বড় করা এবং কার্যকর ইনিংস খেলা।

শেখ মেহেদির বিষয়টা, আমরা জানি ও কতখানি সামর্থ্যবান বোলার। এটা ও অনেক আগেও প্রমাণ করেছে। এখানে কিছু প্রমাণ করার নেই। তবে আগেও বলেছি যে আমরা টিম কম্বিনেশনে দেখে দল যেটা আগে মনে করবে যে এই ক্রিকেটারকে আমাদের দরকার, আমরা তাকেই খেলাব।

২০২১ সালে নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্পিনিং উইকেটে খেলে অনেক ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়েছে। এই সিরিজেও কম রানের উইকেট হতে পারে। সেই শঙ্কাটা আপনাদের মাথায় কাজ করছে কিনা?

লিটন: আমিও একমত! (২০২১ সালের নিউ জিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলে) অনেক ক্রিকেটারেরই ক্যারিয়ার নিচু হয়ে গেছে, ব্যাটসম্যান হিসেবে। আমি যদি বোলার হতাম, হয়তো আমার ক্যারিয়ারও বিল্ড-আপ হতো ওই উইকেটে খেললে (হাসি)।

অবশ্যই দল হিসেবে বাংলাদেশ ডেভেলপ করেছে, সিরিজ জিতেছে। বিশাল প্লাস পয়েন্ট। তবে একই সময়ে ব্যটসম্যানদের জন্য আবার খারাপ ছিল। আমার মনে হয় না, ওই জিনিসের পুনরাবৃত্তি হবে। উইকেট দেখে ভালো মনে হয়েছে। একটা ইভেন গেম হবে।

এনসিএল টি-টোয়েন্টি ও বিপিএলে ভালো করে দলে ফিরেছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। কিন্তু এক ম্যাচ খেলেই বাদ পড়ে গেছেন। জাকের আলি চোট না পেলে ওই ম্যাচও খেলা হতো না। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলে দলে এসে এভাবে বেঞ্চে থাকা কোনো ক্রিকেটারের জন্য মানসিকভাবে পিছিয়ে যাওয়ার কারণ কিনা? অধিনায়ক হিসেবে এসব ক্ষেত্রে আপনার বার্তা কী?

লিটন: আমার মনে হয় না! পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মানসিকভাবে নিচু হওয়ার কোনো সুযোগ এখানে আমি দেখি না। আপনাকে এটাও বুঝতে হবে, যেকোনো ক্রিকেটারই যখন বাংলাদেশ দলে ঢোকে, ঘরোয়াতে রান করেই ঢোকে। বাট আপনি যার জায়গাটা নেবেন, যার জায়গায় খেলবেন, সে তো জাতীয় খেলছে এবং প্রমাণ করেছে। তাই তার জায়গায় আসতে গেলেও এরকম পরিস্থিতি পার করে আসতে হবে।

যেমন আপনি বললেন, জাকির চোটে থাকায় সে (নাঈম) খেলেছে। জাকির যদি ইনজুরড না থাকত, নাঈম খেলতও না। তো জিনিসগুলো এখন, তারও অনেক সময় আছে, সুযোগ আসবে। যদি সুযোগ আসে সে চেষ্টা করবে শতভাগ দেওয়ার। আমি বিশ্বাস করি, নাঈমেরও সেই বিশ্বাস আছে, নাঈম সেই সুযোগটা নিতে পারবে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতে এসেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের টানা সিরিজ জেতার উদাহরণ খুবই কম। তাই মাথায় একটু বেশি চিন্তা কিনা যে এই সিরিজটাও ভালো খেলতে হবে বা কীভাবে ভালো খেলা যায়?

লিটন: চেষ্টার তো কখনও কমতি থাকবে না। শুধু দুইটা কেন, যদি ব্যাক টু ব্যাক অনেকগুলো সিরিজও হয় আমাদের একই মানসিকতা থাকবে, একই লক্ষ্য থাকবে- সিরিজ জেতা। নির্দিষ্ট ম্যাচে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।

শ্রীলঙ্কায় দুইদিন আগে যেটা ঘটে গেছে ওটা অতীত। এখন নতুন জায়গা, নতুন ভেন্যু, সবকিছু নতুনভাবে নিতে হবে, নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা প্রস্তুত এই চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য। দেখি কী হয়।

পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটার বিপিএল খেলে। আপনারা তাদের কাছে পরিচিতি। এটা নিয়ে কী ভাবছেন যে, তারা যে আপনাদের সম্পর্কে জানে। এই জিনিসটা আসলে কেমন?

লিটন: এটা তো খুব ভালো জিনিস। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মজাই এটা যে, বিশ্বের সব ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলার সুযোগ থাকে, বন্ধুত্ব করার সুযোগ থাকে। আপনি যদি শুধু জাতীয় দলে আটকে থাকেন, তাহলে কিন্তু বাইরের ক্রিকেটার সম্পর্কেও জানবেন না, ড্রেসিং রুম শেয়ার করতে পারবেন না।

আমার মনে হয়, এটা দুই দিক থেকেই কাজে দেবে। তারাও যেমন আমাদের শক্তি-দুর্বলতার জায়গা জানবে, আমরাও তাদের সঙ্গে খেলে, তাদের শক্তি-দুর্বলতা জানি। তাই আমার মনে হয় না, খুব একটা সমস্যা হবে। তবে ইকুয়েলি এটা খুব ভালো দিক।

এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ সামনে। এখন তো আপনারা ১৫ জনের একটা কোর স্কোয়াড আছেন। এর বাইরে কি কেউ আছে যাকে মনে হয় এই দলে আসতে পারেন?

লিটন: এটা এখন আমাদের হাতে সেরা দল। অবশ্যই বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো ক্রিকেটার আছে, যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে। যদি প্রয়োজন পড়ে, অবশ্যই তারা এই দলে আসতে পারে। অনেক ক্রিকেটার আছে আসার মতো, এত নাম বলতে গেলে ভুলে যাব।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯ বছর ধরে না টি-টোয়েন্টিতে জেতে না বাংলাদেশ। পাকিস্তান অধিনায়ক তাই প্রচ্ছন্ন একটা চ্যালেঞ্জও দিয়ে গেলেন। এটা নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

লিটন: আমি আগেও বললাম, আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে হবে। সব কিছু তৈরি হয় ইতিহাস হওয়ার জন্য। আর রেকর্ড কিন্তু ভাঙাও হয়। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলি, রেকর্ড ভাঙতে সময় লাগবে না। ওই রেকর্ডের চিন্তা না করে, আমরা কী করতে পারি, আমাদের কতখানি সামর্থ্য আছে, কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, সেসব ভাবলে ওই সব জিনিসই (আগের রেকর্ড) বদলে যাবে।

আপনি বললেন, আমাদের অনেক দূরে না তাকিয়ে বর্তমানে থাকা উচিত। আপনার কী মনে হয়, এটাই সবচেয়ে বড় ঘাটতির জায়গা যে, আমরা বর্তমানে থাকতে পারি না?

লিটন: আমি বর্তমানেই আছি, আপনারা নেই। আমি বর্তমানেই দাঁড়িয়ে আছি। আমাকে বর্তমান নিয়ে প্রশ্ন করলে, বর্তমান নিয়েই উত্তর দেব। আমরা পুরো দলই বর্তমানে আছি। সামনে যেহেতু আগামীকাল খেলা, তো ভবিষ্যত চিন্তা করব কীভাবে, ৬ মাস পর কী হবে।

শ্রীলঙ্কায় মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি কমে আসছিল। তখন মনে হচ্ছিল, পেছনে যারা আছে, তারা ক্রিজে থাকলে ভালো হতো। তাই আপনার মনে হয় কিনা, শামীম বা জাকেরের মতো যারা ছন্দে আছে, তাদের আরেকটু বেশি সময় উইকেটে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত?

লিটন: আমার মনে হয় এটা নির্ভর করবে ম্যাচ পরিস্থিতির ওপর। আমরা জানি, শামীমের সামর্থ্য কেমন, সে কী করতে পারে। এটা মনে হয় আমরাই সবচেয়ে ভালো মূল্যায়ন করতে পারব যে, কাকে কোন সময় ব্যাটিং দিলে ভালো হয়।

করলে তো অনেক কিছু করা যায়। রিশাদকেও ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে দেওয়া যায়। পাঠালে তো অনেক জনকেই…নির্দিষ্ট যে জায়গার ক্রিকেটার, ওখানে খেলাই ভালো।

উইকেট কেমন দেখলেন?

লিটন: উইকেট ভালোই দেখলাম। আমার কাছে মনে হয় ভালো উইকেট হবে। ব্যাটিং-বোলিং দুই সাইডেই থাকবে।

আপনার কী মনে হয়, এখানে কত রান ম্যাচ জেতার জন্য নিরাপদ হবে?

লিটন: যারা উইকেট বানাচ্ছে, তাদের জন্য এই মুহূর্তে জিনিসটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। আবহাওয়ার ওপর তো আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনি যদি দেখেন, গত তিন-চারদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। যে মানুষটা পরিশ্রম করে আপনাকে উইকেট বানিয়ে দেবে, সেই মানুষটার হাতেও ওই সময়টা ছিল না।

এই মুহূর্তে আমাদের উইকেট নিয়ে ভাবার কিছু নাই। উইকেট পাকিস্তানের জন্য যা থাকবে, বাংলাদেশ দলের জন্যও একই থাকবে। আমরা কতটা উইকেটটা পড়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, সেটিই মূল।

কনকাশন বদলির নিয়মে একটা পরিবর্তন এসেছে। এখন লাইক-ফর-লাইক নাম জমা দিতে হয়। এতে করে কি অধিনায়কের ফ্লেক্সিবিলিটি কমে যাবে?

লিটন: এখনও সেভাবে গভীরভাবে চিন্তা করিনি। কনকাশন বদলির বিষয়টা আগে থেকেই আছে। কনকাশনে অনেক সময় অলরাউন্ডার না থাকলে একটা ব্যাটসম্যান নিয়ে নিত। এখন আগেই ঠিক করা থাকে, কার জায়গায় কে আসবে। এটা দুই দলের জন্য একই। শুধু বাংলাদেশ দলের জন্য সুবিধা হবে, এমন না।

পাকিস্তানের স্কোয়াডে পেসারদের থেকে স্পিনারদের মান ভালো দেখা যাচ্ছে। লেগ স্পিনার আবরার, রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিম আছে। সঙ্গে কিছু অলরাউন্ডারও আছে। এটা কি চিন্তার কারণ হবে কিনা?

লিটন: আগেও বলেছি, এই সিরিজটা এত সহজ হবে না। আপনার প্রশ্নের সঙ্গেই বলি, তাদের রহস্য বোলার আছে। তারা ভালো বল করার জন্য সামর্থ্যবান। চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। মিরপুর সবসময় চ্যালেঞ্জিং। একই সময়ে এটা নিয়েই ভালো খেলতে হবে।

মিরপুরের কন্ডিশন নিয়ে আপনাদের উদ্বেগ সবসময়ই ছিল। এখানে অনুশীলন করলে বা ম্যাচ খেললে ক্যারিয়ারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু এটা হোম অব ক্রিকেট। এখানে খেলতেই হয়। নিয়মিত খেলা থাকে। তাই এখানে খেলার জন্য কি মানসিকতা বদলেছেন? না বদলে থাকলে সামনের পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে এটি বদলাবেন কিনা?

লিটন: প্রথমত, ব্যাটারদের যে সবসময় সমস্যা হয় তা না। পরিষ্কার করে দেই, নির্দিষ্ট দুইটা সিরিজে (২০২১ সালের নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) ব্যাটসম্যানদের একটু সমস্যা হয়েছে।

মিরপুরের উইকেট চ্যালেঞ্জিং থাকে, বল স্পিন করে। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা রান করে না, তা নয়। রানও হয়। পেস বোলাররা সাহায্য পায়।

স্পোর্টিং উইকেট এটা। দুই দলের জন্যই সমান থাকবে, এমন না আমরা শুধু সুবিধা পাব। তাদেরও পেস বোলার আছে, স্পিনার আছে, ব্যাটসম্যান আছে। ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এটাই…

আপনার ব্যক্তিগত ব্যাটিংয়ের কথা বলছিলাম…

লিটন: ১০ বছর ধরে এভাবেই খেলতেছি। আর কত সেট করব? পারফর্ম করতে পারছি না, এটা একটা জায়গা আছে উন্নতির যে, ধারাবাহিক পারফর্ম করি না। এটা আমি সবসময় চেষ্টা করছি। কিন্তু অনুশীলনে কখনও কমতি ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

এই শাখার আরও খবর

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ খেলতে বাকুতে বাংলাদেশ

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে অংশ নিতে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল। বুধবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে দেশটিতে…

দ্বীপের বিলাসবহুল বাড়ি দখলের অভিযোগ রিচার্লিসনের, অস্বীকার ফ্লাভিও বলসোনারোর

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আলোচনায় এবার জড়িয়ে পড়েছেন টটেনহামের ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দ্বীপে থাকা তাঁর বিলাসবহুল বাড়ি দখলের…

রিয়ালকে ভালোবাসে বলেই চুক্তি নবায়ন ভিনিসিয়ুসের: মরিনিও

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জায়গায় থাকলে চলতি গ্রীষ্মেই রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চলে যেতেন বলে মন্তব্য করেছেন হোসে মরিনিও। প্রতিপক্ষের সমর্থকদের বিদ্রুপ ও একাধিকবার বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার…

১০ ব্যাটসম্যানেও মেলেনি সমাধান, পাকিস্তানের তিন নম্বরে ভরসা হতে পারেন মাজ সাদাকাত

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের বড় দুর্বলতা দীর্ঘদিনের। বড় ইনিংস খেললেও পাওয়ার প্লেতে ধীরগতির ব্যাটিং, শুরুতে অতিরিক্ত সতর্কতা এবং রান তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার…

শেষ ৭ মিনিটে ৩ গোল, রোমার মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের অবিশ্বাস্য জয়

ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। হার যেন প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ফুটবল বিশ্বকে আবারও চমকে দিল স্প্যানিশ…

লিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের টানা দ্বিতীয় জয়

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ফরাসি ক্লাব লিলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র সাত মিনিটের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au