হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবিঃ ঢাকা পোস্ট
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হওয়া প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি ছিল চীনের তৈরি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিমানটি সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই উত্তরায় বিধ্বস্ত হয়।
বিধ্বস্তের সময় বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৭১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিশু। দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিকতা এবং ভয়াবহতা দেশে শোকের ছায়া নামিয়েছে।
বিমানটি কেমন?
এফটি-৭ বিজিআই মডেলটি তৈরি করেছে চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। এটি একটি কম খরচের, এক ইঞ্জিনচালিত ও দুই আসনের প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান, যা মূলত এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধবিমান চালনার জন্য পাইলটদের প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। এফ-৭ সিরিজের উৎপত্তি চীনের নিজস্ব মডেল হিসেবে হলেও এর প্রযুক্তির ভিত্তি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের মিগ-২১ যুদ্ধবিমান।
গ্লোবাল সিকিউরিটি ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০১৩ সালে চীন থেকে এফটি-৭ বিজিআই মডেলের বিমান সংগ্রহ করে। এই মডেলটি ২০১৩ সালেই আন্তর্জাতিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ এখনও এই মডেলের বিমান ব্যবহার করছে।
অতীতেও ঘটেছে দুর্ঘটনা
এটাই প্রথম নয়—বাংলাদেশে এর আগেও একাধিকবার প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে টাঙ্গাইলে বিধ্বস্ত হয় একটি বিমান, যাতে নিহত হন উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারে ইয়াক-১৩০ মডেলের দুটি রুশ তৈরি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলেও বৈমানিকরা প্রাণে বেঁচে যান। এর আগে ২০১৫ সালে রাজশাহীতে একটি প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনায় নিহত হন পাইলট তামান্না রহমান।
‘ত্রুটির উৎস নির্ণয়ে সময় লাগবে’
বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন এম রহমতুল্লাহ জানান, যুদ্ধবিমানের কার্যক্ষমতা সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছর হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হলে বা রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি থাকলে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, “এখানে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত শেষে নিশ্চয়ই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”
দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানতে এখন তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যেই উত্তরার দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় জাতীয় পর্যায়ে শোক পালিত হচ্ছে এবং নিহতদের স্মরণে সরকারি-বেসরকারি ভবনে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।