ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন ২৩ জুলাই- বেলা আনুমানিক ১টা ৬ মিনিট। ক্লাসরুমে তখনও শেষ ঘণ্টা বাজেনি। হঠাৎ আকাশ ফুঁড়ে বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে এক নির্মম ট্র্যাজেডি—বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয় রাজধানীর উত্তরায়, মাইলস্টোন কলেজ ভবনের ওপর।
চারিদিকে আগুন, ধোঁয়ার কুন্ডলি আর শিশুদের আর্তচিৎকারে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিভীষিকা। যে স্কুল ছিল নিরাপত্তার প্রতীক, তা রূপ নেয় ধ্বংসের কারাগারে।
কে নেবে এর দায়?
কেনো একটি প্রশিক্ষণ বিমান জনবসতিপূর্ণ এমন এলাকায় উড়ছিল? কেনো শিশুবহুল স্কুল ভবনের কাছাকাছি আকাশে চালনা হয় বিপজ্জনক ফ্লাইট ট্রায়াল? শুধু প্রশিক্ষণের নামে কি কোনো জীবন নষ্ট হয়ে যাওয়া উচিত? একটা ভুল সিদ্ধান্ত, অসচেতনতা—আর কত শিশুকে আকাশের তারা বানাবে?
একটি ছোট্ট পরী সকালে বাবার উপর রাগ করেছিল। ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। স্কুলে নামিয়ে দিতে দিতে মা বলেছিলেন, “রাগ করো না মা, বাবা আজ ঘুরতে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেই ঘোরা আর হলো না। ফিরলো এক নিথর দগ্ধ দেহ, যাকে চিনতেই পারেননি মা-বাবা।
প্রশাসন বলবে তদন্ত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কাকে দিয়ে হবে এই তদন্ত? কতগুলো শিশু মরলে তারপর ‘ব্ল্যাক বক্স’ নয়, ‘জীবনের মূল্য’ খোঁজা হবে?
কোন আইনে, কোন বিবেচনায়, কোন কারণ দেখিয়ে এমন জনবহুল এলাকায় ফ্লাইট প্রশিক্ষণ চালানো হয়? প্রশিক্ষণ জরুরি—কিন্তু জীবনের চেয়েও বেশি?
যে শিশুকে গরম ভাত ঠান্ডা করে খাওয়ায় মা, বাবা রোদের তাপ টা পর্যন্ত মাথায় লাগতে দেয় না, সন্তানের মাথায় ছাতা হয়ে দাঁড়ায়। চুলার কাছে যেতে দেয় না, সেই শিশুই আজ আগুনে পুড়ে গেছে। এই কি ছিল আমাদের শিক্ষানীতি? এই কি ছিল উন্নয়নের আকাশ ছোঁয়ার গল্প?
একটা পাইলটকে দক্ষ করতে গিয়ে যদি ১০টা শিশু মারা যায়—তাহলে কোন জাতি কিসের গর্ব করে? স্কুল গেটে কান্না, বুক চাপড়ে বাবার চিৎকার—“আমার মেয়েটা কোথায়?” এই কান্না কি কারো কানে পৌঁছায়? এই বেদনার কি কোনো ফাইল নড়বে সরকারি টেবিলে?
প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—তদন্ত হবে, তারপর? ফলাফল কী হবে? শিশুরা কি ফিরে আসবে?
শুধু রিপোর্ট, কাগজ আর নীরব সমাধি—এই কি সমাধান?
শেষ প্রশ্ন-
আর কত প্রভাত শুরু হবে প্রিয়জন হারানোর আহাজারি দিয়ে? আর কত শিশু স্কুল থেকে ফিরে আসবে না মার কোলে, বাবার বুকে? আর কত বাবা-মা অপেক্ষা করবে খালি হাতে? এই রাষ্ট্র কি জবাব দেবে? নাকি সময়ের ধুলোয় চাপা পড়ে যাবে এই ব্যথাও?
★★মা হয়ে আজ প্রশ্ন রাখলাম। বলতে পারেন খোলা চিঠি লিখলাম। আর নেয়া যাচ্ছে না শরীর টা নিথর হয়ে যাচ্ছে।
মাধবী চক্রবর্তী, ঢাকা
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও লেখক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au