অস্ট্রিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধের উদ্যোগ
‘রাজনৈতিক ইসলাম’ ও উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রিয়া সরকার। দেশটির সংবিধানের আওতায় এসব সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই- রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তা এখন তুলে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ জুলাই) রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপের কাছে রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর থেকেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী এক ডজনেরও বেশি দেশে জারি করা হয় উচ্চমাত্রার সুনামি সতর্কতা। স্থানীয় প্রশাসন উপকূলবাসীদের উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করে। লাখো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে আশঙ্কায় কাটায় কয়েক ঘণ্টা। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সতর্কতা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করতে শুরু করে বিভিন্ন দেশ। ফলে মানুষ আবার ফিরতে শুরু করেছে নিজ নিজ ঘরে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূমি থেকে ৬০ কিলোমিটার গভীরে, কামচাতকার কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। ভূমিকম্পের পরপরই আশঙ্কা করা হয়, সুনামির ঢেউ ১২ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, চিলি, ইকুয়েডর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, নিউ জিল্যান্ড, কানাডা, পাপুয়া নিউ গিনি, মেক্সিকো, গুয়ামসহ বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
জাপানে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বহু এলাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয় এবং যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে সতর্কতা তুলে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে মানুষজন ধীরে ধীরে নিজ বাড়িতে ফিরছে। একইভাবে চিলিতে ১৪ লাখ মানুষকে উপকূলীয় এলাকা ছেড়ে উঁচু স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের মাউই দ্বীপে সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের ১২১টি বন্দরের মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ রাখে দেশগুলো।
তবে আশঙ্কার তুলনায় বাস্তব চিত্র অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। বিশাল ঢেউয়ের পূর্বাভাস থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর উচ্চতা ছিল তুলনামূলকভাবে কম। চিলির উত্তর উপকূলে দেখা যায় মাত্র ২ ফুট উচ্চতার ঢেউ, কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ফলে দেশটি বৃহস্পতিবার সকালেই সতর্কতা তুলে নেয়।
জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা পুনরায় চালু করা হয়। ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে এই কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছিল।
এবারের ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, সেটিও সরাসরি ভূমিকম্পজনিত নয়। জাপানের একটি এলাকায় এক নারী গাড়ি চালিয়ে উঁচু স্থানে যাওয়ার পথে গাড়ি পাহাড়ি খাড়িতে পড়ে গিয়ে মারা যান।
সুনামির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার সেভেরো-কুরিলস্ক শহরে। সেখানকার বন্দর এলাকায় ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস দেখা গেছে, পানিতে তলিয়ে গেছে একটি মাছ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। শহরের মেয়র আলেক্সান্ডার ওভস্যাননিকভ জানান, জলোচ্ছ্বাসের পানি শহরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত পৌঁছায়, যা উপকূল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে।
রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, কিছু ভবনের ধ্বংসাবশেষ পানিতে ভেসে যাচ্ছে, গাড়ি ডুবে যাচ্ছে এবং সমুদ্রের পানিতে ঢুকে পড়েছে বাড়িঘর। তবে প্রাণহানির কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি রাশিয়া।
ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কামচাতকার ক্লিউচেভস্কয় আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। রুশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্প ১৯৫২ সালের পর কামচাতকা অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী। এছাড়া ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একাধিক আফটার শক অনুভূত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, এটি ১৯০০ সালের পর বিশ্বে রেকর্ড হওয়া ১০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের মধ্যে একটি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে ৭ মাত্রার বেশি একটি আফটার শকের সম্ভাবনা প্রায় ৫৯ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সতর্কতা জারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণেই প্রাণহানি কম হয়েছে। গত কয়েক বছরের শিক্ষা থেকে দেশগুলো আগেভাগেই ব্যবস্থা নেয়, যার ফলাফল অনেকটাই ইতিবাচক। তবে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির সবসময় আশঙ্কা থেকেই যায়।
এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সুনামি বা ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আফটার শকের আশঙ্কা থাকায় অঞ্চলভেদে জরুরি অবস্থা বহাল থাকতে পারে। তবে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা আপাতত নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এভাবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ঘরে ফিরছেন লাখ লাখ আতঙ্কিত মানুষ। তবে প্রকৃতির ভয়াবহতা ও অনিশ্চয়তা আবারও বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—প্রস্তুত না থাকলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কতটা ভয়ংকর হতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au