ফিফার রেকর্ডে নেই লাল কার্ড, তবু পারেদেসের বিরুদ্ধে তদন্তে শাস্তির আশঙ্কা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর ম্যাচ শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই- সাড়ে তিন বছর পর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার দেশব্যাপী জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর প্রধান এবং কার্যত দেশটির শাসক জেনারেল মিন অং হ্লেইং লিখিত আদেশে এই ঘোষণা দেন। জান্তা সরকারের মুখপাত্র জৌ মিন তুন জানান, আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ‘বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গঠনের অংশ’ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে এবং দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে। এরপর থেকে দেশটিতে কার্যত একনায়কতন্ত্র চালু হয়। নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি-সহ এনএলডি দলের বহু নেতাকে গ্রেপ্তার ও বন্দি করে সেনাশাসকরা। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণায় জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বার্তা এলেও দেশের বাস্তব পরিস্থিতি এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমার ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক কঠিন সময় পার করছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জনতা রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানালে সেনাবাহিনী তা দমন করে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব মতে, হাজার হাজার মানুষ সেনাবাহিনীর হাতে নিহত ও আটক হয়েছেন। বহু বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ নাগরিক গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন অংশে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ আরও বেড়ে গেছে, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে করে তুলেছে ভয়াবহ।
এই রাজনৈতিক সংকটের গভীরে রয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর decades-ব্যাপী নিপীড়নের ইতিহাস। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পরিচালিত নিধনযজ্ঞের পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ এই অভিযানকে গণহত্যার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বরং মিয়ানমারের ভেতরকার নিরাপত্তা সংকট, সামরিক দমননীতি এবং রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান বৈষম্যের কারণে তাদের স্বদেশে ফেরার সম্ভাবনা প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের এখনো নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত হয়নি। রাখাইনে যারা রয়ে গেছেন, তারাও মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক চাপ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আহ্বান সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি।
সামরিক সরকারের তরফ থেকে নির্বাচন আয়োজনের যে বার্তা এসেছে, তা রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি সেনাশাসকদের প্রকৃত অঙ্গীকার ছাড়া এই নির্বাচনও হয়তো কেবল বৈধতা সৃষ্টির একটি প্রচেষ্টা হয়ে থাকবে।
মিয়ানমারের চলমান সংকট শুধুই একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়; এটি পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের জন্য এক বড় হুমকি। এই সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন একটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ সুগম করা সম্ভব হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত এসব শর্ত পূরণ না হয়, ততক্ষণ জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের মতো ঘোষণাও দেশটির জনগণের বাস্তব জীবনকে আলোর মুখ দেখাতে পারবে না।
সুত্রঃ ব্লুমবার্গ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au