ফিফার রেকর্ডে নেই লাল কার্ড, তবু পারেদেসের বিরুদ্ধে তদন্তে শাস্তির আশঙ্কা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর ম্যাচ শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড…
মেলবোর্ন, ১ আগষ্ট- রংপুরের গঙ্গাচড়ার আলদাদপুর গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসতবাড়িতে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পেছনে নেতৃত্ব দেয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এদের অনেকেই থাই লটারি এবং বিদেশে পাঠানোর নামে ভিসা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। এসব যুবক কারও কথা শোনেনি, এমনকি জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধও উপেক্ষা করে।
মাগুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু জানান, পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখতে তিনি মাইকিং করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। বলেন, ‘আমি মাইকে বলেছি—অভিযুক্ত কিশোরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, আর উত্তেজনার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু যুবক আমার অনুরোধ অমান্য করে আমাকে গালাগাল করে এবং লাঠি হাতে আলদাদপুরের দিকে রওনা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খিলালগঞ্জ বাজারে ব্যারিকেড দিলেও ওই যুবকরা তা ভেঙে গ্রামে ঢুকে পড়ে।
আলদাদপুর গ্রামের বাসিন্দা অতুল চন্দ্র রায় জানান, সকালে কয়েকজন এসে সমাবেশে সহযোগিতা চায় এবং আশ্বস্ত করে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু বিকেলে তারাই বাড়িঘর ভাঙচুর করে। চন্দনা রানী বলেন, “সকালেও যারা সহযোগিতা চাইছিল, তারাই বিকেলে হামলা চালায়। আমরা ভয়ে পালিয়ে যাই।”

নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী; ছবিঃ ওটিএন বাংলা
ঘটনার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, তিনি ভ্যানে করে সেতুর কাছে যান এবং কিছু ধর্মীয় নেতাসহ সবাইকে লাঠি ফেলে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু মিছিলকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায়।
আরেক বাসিন্দা প্রশান্ত কুমার রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা গ্রামে ঢোকে, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে এবং পুলিশ সদস্যদের আহত করে। এরপর পুলিশ স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে আশ্রয় নেয়।
তিনি জানান, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চালানো এই হামলায় অন্তত ১৫টি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এলাকাবাসী এবং জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, কিশোরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনার আগে থেকেই পুরো বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার দিন সকালে মাইকিং করে জনতা জড়ো হতে থাকলেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।
যদিও কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম দাবি করেছেন, এলাকায় কোনো বিক্ষোভ হয়নি এবং পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু জানান, তিনি সেখানে মাত্র ৩-৪ জন পুলিশ সদস্যকে দেখেছেন এবং পুলিশের সহযোগিতাও পাননি।
ইউপি সদস্য রুহুল আমিনও বলেন, পুলিশ চাইলে অতিরিক্ত ফোর্স এনে অথবা সেনাবাহিনী ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত, কিন্তু তারা কিছুই করেনি।
ঘটনার পর দুই দিন ধরে নীলফামারীর পুলিশ সুপারের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানান সাংবাদিকরা।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
এদিকে কিশোরগঞ্জ থানায় তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং গালাগালের অভিযোগ উঠেছে ওসি আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ‘মানববন্ধনের সময় পুলিশের প্রস্তুতি কেমন ছিল’—এমন প্রশ্ন করায় প্রথম আলো ও কালবেলার দুই প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আটক করতে বলেন।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ওসির অপসারণ ও বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, যার মধ্যে রয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে), নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ক্লাব, অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ আরও অনেকে। তারা জানিয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলনে যাবে তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই রাতে আলদাদপুর গ্রামের এক কিশোর রঞ্জন রায়কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতেই রঞ্জনের ও তার কাকার বাড়িতে হামলা হয়। পরদিন বিকেলে প্রায় ২ হাজার জনের একটি মিছিল গ্রামে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

কিছুক্ষন পরপর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন সন্ধ্যা রানি; ছবিঃ ওটিএন বাংলা
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ১৫টি পরিবারের অন্তত ২২টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
হামলা ও লুটপাটের এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার অজ্ঞাত ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় গঙ্গাচড়া মডেল থানায়। পুলিশ ইতোমধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার আদালত ওই ৫ জনকে ২ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au