আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…
মেলবোর্ন, ৩ আগষ্ট- চীনের তৈরি অত্যাধুনিক মাল্টিরোল অ্যাটাক হেলিকপ্টার জেট-১০ এখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দখলে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, পাকিস্তান আর্মি এভিয়েশন কর্পস এই হেলিকপ্টার ব্যবহার শুরু করেছে। এই সংযোজন পাকিস্তানের আকাশযুদ্ধ সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হেলিকপ্টারের এক সংস্করণ ইতিমধ্যে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) চীন-ভারত সীমান্তে মোতায়েন করেছে। ২৫ জুলাই চীনের সেনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং ইউওক্সিয়া বেইজিংয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সামরিক সম্পর্ককে চীন-পাকিস্তান অংশীদারিত্বের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গত মঙ্গলবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক সদস্য একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যাতে দেখা যায়, জেট-১০ হেলিকপ্টার একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে উড়াল দিচ্ছে। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘পাকিস্তানের জেট-১০ অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রথম ঝলক। এটি আকাশ থেকে মাটিতে আঘাত হানতে সক্ষম পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত।’
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের তথ্যমতে, ২ আগস্ট মুলতান গ্যারিসনে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আনুষ্ঠানিকভাবে এই হেলিকপ্টারের উদ্বোধন করেন। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়, পাকিস্তান ৪০টি জেট-১০ হেলিকপ্টার সংগ্রহ করেছে। তবে সরবরাহ ও কেনার সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এই হেলিকপ্টারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হবে।
এতদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বহরে ছিল এএইচ-১ এফ কোবরা ও রুশ নির্মিত সীমিতসংখ্যক এমআই-৩৫ হিন্ডস। তবে আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই হেলিকপ্টারগুলোকে অপ্রতুল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেট-১০ হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা অনেকটাই উন্নত। এতে রয়েছে টাইটানিয়াম ও সিরামিক কম্পোজিট আর্মার, উন্নত অ্যাভিওনিকস, এইএসএ র্যাডার প্রযুক্তি, ইনফ্রারেড কাউন্টারমেজার এবং পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। অস্ত্রসজ্জায় রয়েছে ছয়টি আর্মস স্টেশন, সিএম-৫০২ কেজি প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল এবং ২৩ মিমি কামান।
এই হেলিকপ্টার ভারতের কাছে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের চেয়ে শক্তিশালী বলেই দাবি করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০০ কিমি এবং টানা উড়তে পারে ৮০০ থেকে ১,১২০ কিমি পর্যন্ত।
ভারতের পক্ষ থেকেও পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গত ২২ জুলাই ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম তিনটি এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচি গার্ডিয়ান হেলিকপ্টার পেয়েছে, যা পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চীন-পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক এবং ভারতের সঙ্গে তাদের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত পরিস্থিতি এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জেট-১০ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রমণ সক্ষমতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au