পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ৩ আগষ্ট- বিশ্বজুড়ে প্রচুর বৈঠক, অধিবেশন ও গবেষণা করে প্রতিবছর হাজার হাজার প্রতিবেদন তৈরি করে জাতিসংঘ। এর পেছনে ব্যয় হয় বিপুল অর্থ ও মানবসম্পদ। জাতিসংঘের অধীন প্রায় ২৪০টি সংস্থা প্রতিবছর এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যুক্ত থাকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই গবেষণা প্রতিবেদনগুলোর একটি বড় অংশই কেউ পড়ে না, কেউ গুরুত্বও দেয় না।
জাতিসংঘের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং খরচ কমানোর উপায় নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত শুক্রবার এই প্রতিবেদনটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে উপস্থাপন করেন। এটি তাঁর ‘ইউএন ৮০’ সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—জাতিসংঘের তৈরি প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে অনেকই পাঠকের অভাবে পড়ে থাকে। এতে সংস্থাটির কার্যকারিতা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মহাসচিব গুতেরেস জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সচিবালয় প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার ১০০টি প্রতিবেদন তৈরি করে, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। তবে এই বিপুল সংখ্যক প্রতিবেদন থেকে বাস্তবিক উপকার পাওয়া যাচ্ছে না বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মাত্র ৫ শতাংশ প্রতিবেদন ৫ হাজার ৫০০ বারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। আবার প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি প্রতিবেদন ১ হাজার বারেরও কম ডাউনলোড পেয়েছে। অথচ, কোনো প্রতিবেদন ডাউনলোড হওয়া মানেই যে তা পাঠ করা হয়েছে, তাও নিশ্চিত নয়। এই কারণে প্রতিবেদনের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
জাতিসংঘ এই বছর ৮০ বছরে পা দিচ্ছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি গত সাত বছর ধরেই তারল্য সংকটে ভুগছে। মূলত, ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে অনেকেই সময়মতো বা পুরোপুরি নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করছে না, যার ফলে আর্থিক সংকট দিন দিন বাড়ছে। এই পটভূমিতেই জাতিসংঘ মহাসচিব ‘ইউএন ৮০’ নামের একটি সংস্কার টাস্কফোর্স চালু করেন, যার অন্যতম উদ্দেশ্য জাতিসংঘের কার্যক্রমে মৌলিক সংস্কার আনা।
এই সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুতেরেস কম প্রতিবেদন ও কম সভার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এমন প্রতিবেদন ও সভার আয়োজন করতে হবে, যেগুলো জাতিসংঘের প্রত্যেকটি ম্যান্ডেট বা দায়িত্ব পূরণে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় হবে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমেই জাতিসংঘ কার্যকর সংস্থা হিসেবে নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলতে পারবে এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহারে সক্ষম হবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au