ফিফার রেকর্ডে নেই লাল কার্ড, তবু পারেদেসের বিরুদ্ধে তদন্তে শাস্তির আশঙ্কা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর ম্যাচ শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড…
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- সৌদি আরবে চলমান ধরপাকড় অভিযানে এক সপ্তাহেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২২ হাজার ১৪৭ জন প্রবাসীকে। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২৪ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশজুড়ে এই অভিযান চালায়। রোববার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি ও দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সৌদি গ্যাজেট–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সৌদিজুড়ে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযান বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এক বড় অংশ আবাসন ও শ্রম আইনের লঙ্ঘনের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন। শুধু আবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩ হাজার ৮৩৫ জনকে। সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪ হাজার ৭৭২ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৪০ জনকে।
এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৮১৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ান, ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু অবৈধভাবে প্রবেশ নয়, যারা এইসব আইনভঙ্গকারী অভিবাসীদের আশ্রয়, সহায়তা বা পরিবহন করেছে—তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগে সৌদিতে বসবাসরত আরও ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে ২১ হাজার ১৪৩ জন অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৩২৬ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৮১৭ জন নারী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৩ হাজার ৫৬৯ জনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে যাতে তারা দেশে ফেরার আগে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। অন্যদিকে আরও ৩ হাজার ৫৬৬ জনকে ফেরত পাঠানোর চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার ৮২০ জনকে সৌদি আরব থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সৌদি আইন অনুযায়ী, যেকোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে সৌদি আরবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে বা এই অনুপ্রবেশে সহায়তা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান। পাশাপাশি অপরাধীর ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ জনসংখ্যার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসী শ্রমিকদের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসন ও আইন লঙ্ঘনকারী প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় অভিযান চলে আসছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের খবর প্রচার করছে এবং কর্তৃপক্ষও নানা সময় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিকবার সতর্ক করে বলেছে, প্রবাসীরা যেন সৌদি আরবে কাজ করার ক্ষেত্রে যথাযথ আইন অনুসরণ করে এবং অবৈধ কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে।
সুত্রঃ সৌদি গ্যাজেট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au