মতামত

ভারত ও পাকিস্তান নিয়ে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন খেলা

  • 8:32 am - August 07, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৫৯ বার
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে। একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নানা কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চীনকে ঘিরে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক জোট রাজনীতি, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিমুখ এবং ভারত-পাকিস্তানের চিরন্তন বৈরিতা—এই তিনের সংঘাতে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্র ক্রমেই নতুন চেহারা নিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে সাবেক ডন  সম্পাদক আব্বাস নাসির তাঁর লেখায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের পুনর্গঠনের এক বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন, যা আজকের ভূরাজনীতিতে পাঠকদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের দৃশ্যত উন্নতি এবং ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অবনতি নিয়ে পাকিস্তানে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু উদ্দীপনার পাটাতন কি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং সেটি কত দিন টিকবে? কিছু বিশ্লেষক এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে ‘জোটের পুনর্বিন্যাস’ এবং ‘দিক পরিবর্তন’ বলতে শুরু করেছেন। কিন্তু এই জোটের ‘পুনর্বিন্যাস’ অর্থ যদি হয় চীনের কাছ থেকে পাকিস্তানের সরে আসা, তাহলে আমার মনে হয়, এই বিশ্লেষকেরা সম্ভবত ঠিক বলছেন না।

এর কারণ হলো, চীন পাকিস্তানের জন্য নির্ভরযোগ্য অংশীদার ও মিত্র। পাকিস্তান অনেক জায়গায় অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ পাকিস্তান।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ক্রমে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার দিল্লিতে ক্ষমতায় রয়েছে। তারা অব্যাহতভাবে তাদের সাম্প্রদায়িক সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ঠেকাতে হলে পারমাণবিক প্রতিরোধী ব্যবস্থার সঙ্গে সামরিক সরঞ্জামও প্রয়োজন।

এটা বলতেই হবে যে পাকিস্তানের জন্য কিছু সুযোগ এসেছে, যেটা জিরো সাম গেমের বা একজন জিতলে আরেকজন হারবে, এমন খেলার অংশ নয়। যুক্তরাষ্ট্র যেমন পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ‘হয় আমার পক্ষে, না হয় আমার বিরুদ্ধে’ এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখে, চীন এ রকমভাবে দেখে না; বরং চীনের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও বাস্তববাদী। এর কারণ হলো চীন এখন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যকে মূল মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে।

পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলো প্রায়ই চীনের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে; কিন্তু চীন মাত্র ৪০ বছরের মধ্যে কীভাবে ৮০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনল, এ বিষয়টিতে তারা নীরব থাকে। আমরা এখন দেখছি যে গাজায় যে জাতিগত নির্মূল যজ্ঞ চলছে, তাতে প্রায় সমগ্র পশ্চিমা ‘গণতন্ত্র’ ইসরায়েলের দুষ্কর্মের দোসর হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

এখনকার বাস্তবতায় দুটি বিষয় পাকিস্তানের পক্ষে গেছে। প্রথমত, ইসলামাবাদ সঠিকভাবে ট্রাম্পের আত্মমুগ্ধতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। ট্রাম্পের নাম শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। ২০২১ সালের আগস্টে কাবুল বিমানবন্দরের ‘অ্যাবি গেট’ বোমা হামলার একজন অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করেছে। এতে ‘কঠোর নেতা’ হিসেবে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি শক্তিশালী হয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন তড়িঘড়ি করে কাবুল ত্যাগ করছিল, তখন ওই হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ২০০ আফগান নিহত হয়েছিলেন।

চীনকে মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সামনে ঠেলে দিচ্ছে। ভারত এখন কোয়াডেরও সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোটের অন্য দুই সদস্য হলো অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। এ কারণেই ব্রিকসে ভারতের সদস্যপদকে এশিয়ায় পশ্চিমা কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে অসাঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; কিন্তু ভারতকে এখন এক পক্ষ বেছে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এরপর গত বছরের মে মাসে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত যখন পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানায়। মার্কিন সূত্র জানায়, ইসলামাবাদ দ্রুত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায় এবং আত্মমুগ্ধ নেতা ট্রাম্পকে একটি ‘জয়’ উপহার দেয়। ট্রাম্প নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে উপস্থাপন করতে কখনো ক্লান্ত হন না। এ ঘটনায় তাঁর অহং ব্যাপকভাবে তৃপ্ত করেছিল।

অন্যদিকে মনে করা হয় যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন দুটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যা ট্রাম্পকে রাগিয়ে তোলে। প্রথমটি হলো, ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে ছিলেন, তখন মোদি তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠক বাতিল করেছিলেন। এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে ট্রাম্পের যে বিশাল অহংবোধ তাতে নিশ্চিতভাবেই আঘাত করবে।

ভারতের জন্য আরেকটি অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটে মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সময়। সংঘাত যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় তার জন্য মার্কিন নেতারা টেলিফোনে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশ হোয়াইট হাউসকে জানায়, তারা উত্তেজনা প্রশমন করবে; কিন্তু ভারত থামেনি।

বরং যুদ্ধে লজ্জাজনকভাবে যুদ্ধবিমান হারানোর (এরপর দুই দিন ভারত তাদের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ঘাঁটিতে নিরাপদে রাখে) প্রতিশোধ হিসেবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়। ১০ মে ভোররাতে পাকিস্তানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানান যে ভারত যে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, সেটি উত্তেজনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পদক্ষেপ। আর পাকিস্তান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই সংযম দেখিয়েছে।

ধারণা করা হয় যে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো ট্রাম্প মনে করেছেন ভারত মুখে এক কথা বললেও উল্টোটা করে আমেরিকাকে অবজ্ঞা করেছে। যদিও ভারত শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাড়া দেয় এবং ট্রাম্প একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে সক্ষম হন; কিন্তু ততক্ষণে পারস্পরিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

এ ঘটনাক্রম যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অবনতি ঘটিয়ে থাকতে পারে; কিন্তু এটা ভাবা শিশুতোষ হবে যে বিশ্বশক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এ রকম ছোটখাটো ইস্যুর (সেখানে কোনো নেতার আত্মঅহমিকার প্রশ্নটি যতই জড়িত থাকুক না কেন) ওপর নির্ভর করে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের প্রধান উত্তেজনার উৎস হলো ভারতের ব্রিকসের সদস্যপদ। এই জোটে রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি ছোট দেশ মিলে একটি বাণিজ্যিক ব্লক গঠন করেছে। ব্রিকস একটি নতুন মুদ্রা চালুর চিন্তা করছে, যার মাধ্যমে মার্কিন ডলার ছাড়াই বাণিজ্য করা যাবে। যদি এমনটি বাস্তবে ঘটে, তাহলে ডলারের প্রাধান্য হ্রাস পাবে এবং বিশ্ব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে একটি বিকল্প লেনদেনের পদ্ধতি পাবে। নতুন এই মুদ্রাকে অনেকে অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করলেও যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়কে সহ্য করতে পারছে না।

চীনকে মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সামনে ঠেলে দিচ্ছে। ভারত এখন কোয়াডেরও সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোটের অন্য দুই সদস্য হলো অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। এ কারণেই ব্রিকসে ভারতের সদস্যপদকে এশিয়ায় পশ্চিমা কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে অসাঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; কিন্তু ভারতকে এখন এক পক্ষ বেছে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

সুতরাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতকে নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস এবং নতুন শুল্ক, এ সবকিছুর পেছনে ভারতে পথে আনার প্রচেষ্টা রয়েছে। বাস্তবে সেটি যদি ঘটে, তাহলে পাকিস্তানের উচ্ছ্বাস স্বল্পায়ু হবে; আর যদি না করে তাহলে আমরা মুষ্টিযুদ্ধ খেলায় একেবারে প্রথম সারির দর্শক হয়ে থাকব।

আব্বাস নাসির, দ্য ডন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক

এই শাখার আরও খবর

ঈদুল গাদিরে দুই হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিলেন মোজতবা খামেনি

মেলবোর্ন,০৬জুন-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে দুই হাজারের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা মওকুফ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। শুক্রবার ইরানের বিচার…

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির দরজা সবসময় খোলা: উপাচার্য

মেলবোর্ন,০৬জুন-তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা…

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জাতীয় দলে ফিরছেন সালাউদ্দিন, কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন

মেলবোর্ন,০৬জুন-আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং স্টাফে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচিং স্টাফে জনবল সংকট দেখা দেওয়ায় আবারও জাতীয় দলের…

বউকে বাঁচাতে গিয়ে শাশুড়ির মৃত্যু, কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল দুজনের

মেলবোর্ন,০৬জুন-কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তার শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখরাশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের এক…

ইসরায়েল ও ইরানের ওপর চটলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

মেলবোর্ন, ৫ জুন-  দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল এবং ইরান উভয়ের প্রতিই কড়া বার্তা দিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। তিনি একদিকে বেসামরিক…

ইসরায়েলি রোগীদের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগে দুই নার্সের বিচার ঘিরে নতুন বিতর্ক

মেলবোর্ন, ৫ জুন- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ব্যাংকসটাউন হাসপাতালের দুই নার্স সারা আবু লেবদেহ ও আহমদ রাশাদ নাদিরের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রোগীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বহুল আলোচিত মামলার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au