ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট- গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিকসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাইরে স্থাপিত একটি তাঁবুতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। নিহতদের মধ্যে আল জাজিরার প্রধান সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ, সংবাদদাতা মোহাম্মদ কুরেইকেহ, ক্যামেরাপার্সন ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মুয়ামেন আলিওয়া রয়েছেন।
আল জাজিরা এ হামলাকে “গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন ও পূর্বপরিকল্পিত হামলা” বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি শুরুতে চার কর্মীর মৃত্যুর কথা জানালেও পরে সংখ্যা বাড়িয়ে পাঁচ সাংবাদিকের কথা নিশ্চিত করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) টেলিগ্রামে পোস্ট দিয়ে জানায়, তারা আনাস আল-শরীফকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল এবং দাবি করে তিনি হামাসের একটি সন্ত্রাসী সেলের প্রধান ছিলেন। তবে নিহত অন্য সাংবাদিকদের নাম তারা উল্লেখ করেনি।
আল জাজিরার ম্যানেজিং এডিটর মোহাম্মদ মোয়াওয়াদ বিবিসিকে বলেন, আল-শরীফ অনুমোদিত সাংবাদিক ছিলেন এবং “গাজার ভেতরের ঘটনাবলির একমাত্র কণ্ঠস্বর” হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁরা তখন ফ্রন্টলাইন থেকে কভারেজ করছিলেন না, বরং তাঁবুর ভেতরে ছিলেন। তার মতে, ইসরায়েলি সরকার গাজার ভেতর থেকে সংবাদ কভারেজ বন্ধ করতে চায়।
২৮ বছর বয়সী আনাস আল-শরীফ দীর্ঘদিন ধরে উত্তর গাজা থেকে সংবাদ দিচ্ছিলেন। মৃত্যুর কিছু আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, গাজার পূর্ব ও দক্ষিণে ইসরায়েল তীব্র বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে, যা “ফায়ার বেল্ট” নামে পরিচিত। তার শেষ ভিডিওতে বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশের কমলা আভা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। বিবিসি যাচাই করা পরবর্তী ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, নিহতদের মরদেহ বহন করছে কয়েকজন পুরুষ—যার মধ্যে আল-শরীফ ও কুরেইকেহও ছিলেন।
মৃত্যুর পর বন্ধুরা আনাসের ৬ এপ্রিল লেখা এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে তিনি বলেন, শিশু ও নারীদের বিকৃত দেহও বিশ্বের বিবেক নাড়াতে পারেনি বা দীর্ঘদিনের হত্যাযজ্ঞ থামাতে পারেনি। তিনি স্ত্রী বায়ান, ছেলে সালাহ ও মেয়ে শামকে বড় হতে না দেখার আক্ষেপও প্রকাশ করেছিলেন।
এর আগে আল জাজিরা, জাতিসংঘ এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) সতর্ক করেছিল যে আল-শরীফের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিল। সিপিজে’র প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ বলেন, ইসরায়েল প্রমাণ ছাড়াই নিহত সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী হিসেবে দাবি করে আসছে—যা এই যুদ্ধসহ বিগত কয়েক দশক ধরে দেখা যাচ্ছে।
এটি প্রথম নয় যে আইডিএফ গাজায় আল জাজিরার সাংবাদিকদের হত্যা করেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বিমান হামলায় সাংবাদিক ইসমাইল আল-ঘৌল, ক্যামেরাপার্সন রামি আল-রিফি ও এক কিশোর নিহত হন। সেই ঘটনায়ও আইডিএফ দাবি করেছিল, আল-ঘৌল ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নিয়েছিলেন—যা আল জাজিরা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে।
সিপিজে’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au