‘ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না’
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন,…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও আশপাশের এলাকায় শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ভোর থেকেই চূড়ান্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন শতাধিক মানুষ। প্রায় সবার হাতে লাঠি ও পাইপ, মাথায় বাঁধা জাতীয় পতাকা। সন্দেহ হলেই পথচারীদের জেরা করা হচ্ছে, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ তল্লাশি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে বা ১৫ আগস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কোনো পোস্ট দিয়েছেন—এমন সন্দেহে কয়েকজনকে রাস্তার বিপরীতে অবস্থিত নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থানকারীরা জানিয়েছেন, পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কয়েকজনকে মারধরের ঘটনাও দেখা গেছে, যদিও কিছু মানুষ মারধর থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন। সকাল থেকে মিরপুর রোড, সায়েন্সল্যাব, জিগাতলা ও আশপাশের গলিতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে।
শ্রদ্ধা জানাতে বাধা
শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। তবে ভোর থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনগুলো আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঠেকাতে অবস্থান নেয়। তারা “রেজিস্ট্যান্স উইক” কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল কয়েকদিন আগেই।

বেশ কয়েকজনকে ফিরিয়ে দিতে দেখা যায় অবস্থানকারীদের। ছবিঃ বিবিসি বাংলা
সকাল ১০টার দিকে শেরেবাংলা নগর থেকে ফুল নিয়ে আসা আওয়ামী লীগ কর্মী পরিচয়দানকারী হালিমা নামে এক নারীকে প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ। উপস্থিত উত্তেজিত জনতা তাকে ঘিরে ধরলে পুলিশ দ্রুত রিকশায় এলাকা ত্যাগে সহায়তা করে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হালিমাসহ অন্তত ১৫ জনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
পুলিশের কড়া অবস্থান
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসিয়ে সড়কের দুই দিক বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুর ভাঙা বাড়ির সামনে সার্বক্ষণিক পাহারায় আছেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত সাতজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়—যাদের কেউ ফেসবুকে লাইভ করছিলেন, কেউ আওয়ামী লীগের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ সন্দেহে চারজনকে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জিসানুল হক জানান, “কেউ যাতে উচ্ছৃঙ্খলতা বা নাশকতা করতে না পারে, সে জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”

শ্রদ্ধা জানাতে আসা এক নারীর হাত থেকে ফুল কেড়ে নিয়ে সড়কে ফেলে দেয়া হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
কাদের সিদ্দিকীকে ফিরিয়ে দেওয়া
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী শ্রদ্ধা জানাতে এলে অবস্থানকারীরা তাকে ফিরিয়ে দেন। তিনি জানান, এসময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তবে তিনি আন্দোলনকারীদের বিজয় ধরে রাখতে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “১৬ বছর ক্ষমতায় থেকেও বঙ্গবন্ধুকে সবার নেতা বানাতে পারেনি, শুধু দলের নেতা বানিয়েছে।”
মোবাইল তল্লাশি নিয়ে বিতর্ক
এলাকায় মোবাইল ফোন তল্লাশি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও রিফাত রশীদ দুজনেই প্রকাশ্যে নিন্দা জানান। তারা বলেন, প্রাইভেসি বিনষ্ট করে এমন কোনো কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়, এবং এটি পুরনো বৈষম্যের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।
শুক্রবার শাহবাগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে মিছিল, পথনাটকসহ আওয়ামী লীগের পাল্টা তৎপরতা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au