তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকালে বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জন্তর মন্তরে চলমান এই আন্দোলনে…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে বসেছিলেন আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহরে। বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি ছিল এই আলোচনার দিকে। কারণ, ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
কিন্তু বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ বিবৃতি দিলেও কোনো প্রশ্ন নেননি। তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা গেল, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করলেও ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে তারা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি।
ট্রাম্পের দ্বিধা ও ‘চুক্তির কারিগর’ ভাবমূর্তির ধাক্কা
বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কিছু ভালো অগ্রগতি করেছি।” তবে সেই অগ্রগতি আসলে কী—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি। কিছুক্ষণ পর আবার তিনি নিজেই স্বীকার করেন, “আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি।”
এই বক্তব্যে একদিকে বোঝা গেল, আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে ট্রাম্পের সেই ‘চুক্তির কারিগর’ ইমেজও ধাক্কা খেল। প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনার পরও যুদ্ধবিরতি নয়, কোনো সমঝোতাও নয়—ফলে হাতে গোনা কিছুই অর্জিত হলো না।
এমনকি সাংবাদিকদের সামনে পুতিনের দীর্ঘ বক্তব্যের সময় ট্রাম্পের নীরব দাঁড়িয়ে থাকা বিষয়টি অনেককে বিব্রত করেছে। সাধারণত হোয়াইট হাউসে বিদেশি নেতারা চুপ থাকেন আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট কথা বলেন। কিন্তু অ্যাঙ্কোরেজে ঘটল উল্টোটা।
আলাস্কা একসময় ‘রুশ আমেরিকা’ ছিল—এ ইতিহাস বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এই বৈঠকে সেই প্রেক্ষাপট যেন পুতিনকেই সুবিধা দিল। তিনি শুধু আলোচনায় প্রভাবশালী অবস্থানেই ছিলেন না, সংবাদ সম্মেলনের মতো আয়োজনে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পাশে দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক কূটনীতির মঞ্চে আলোকিত হওয়ার সুযোগও পেলেন।
কিন্তু যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি পুতিন। তিনি আবারও পুরোনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন—সংঘাতের মূল কারণ দূর না হলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। ক্রেমলিনের ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায়, ইউক্রেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দুর্বল করার লক্ষ্য থেকে রাশিয়া সরছে না।
অ্যাঙ্কোরেজ বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় কিয়েভ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। কারণ, কোনো চুক্তি হলে তা হয়তো তাদের ভূখণ্ডের বিনিময়ে হতো। অতীতে রাশিয়ার সঙ্গে করা অনেক চুক্তিই শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে। তাই ইউক্রেনীয়রা এমন চুক্তির প্রতি সন্দিহানই থাকতেন।
তবে উদ্বেগও কমেনি। কারণ, পুতিনের বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হলো—রাশিয়া আগের লক্ষ্যেই অটল। যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে কোনো আশ্বাস নেই। অন্যদিকে পশ্চিমাদের দেওয়া আল্টিমেটাম বা হুঁশিয়ারিগুলো কার্যকর হয়নি। এতে অনেক ইউক্রেনীয় মনে করছেন, এসব ব্যর্থ চাপ আসলে পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ারই সুযোগ করে দিচ্ছে।
এখন বড় প্রশ্ন হলো—ট্রাম্প কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেবেন? বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হয়তো দুই–তিন সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তবে আগের মতো ‘কঠিন পরিণতি’র হুঁশিয়ারির পর এই অস্পষ্ট অবস্থান আরও প্রশ্ন তুলছে।
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে আপাত স্বস্তির বিষয় হলো, ট্রাম্প কোনো একতরফা ছাড় দেননি। কিন্তু নিজ দেশে ও বিশ্বে তাঁর ভাবমূর্তিতে আঘাত হেনেছে এই ব্যর্থ বৈঠক।
আলাস্কার বৈঠক শেষ হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি—রাশিয়ার হামলা কি চলতেই থাকবে? পশ্চিমাদের চাপ কি এবার কার্যকর হবে? নাকি এ বৈঠকও পুতিনকে নতুন করে সময় এনে দিল?
বিশ্ব এখন সেই অনিশ্চয়তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au