শিগগিরই চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের…
মেলবোর্ন, ২৮ আগষ্ট- উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি।
চীনের বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কুচকাওয়াজ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ও জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তিকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের ২৬ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও রয়েছেন।
কুচকাওয়াজে চীন তার সর্বাধুনিক সামরিক শক্তি প্রদর্শন করবে। থাকবে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, ড্রোনবিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং নতুন গঠন কাঠামোর সেনাবাহিনী। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের মধ্য দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অগ্রসর হবেন কয়েক হাজার সেনা। অংশ নেবেন সেনাবাহিনীর ৪৫টি ইউনিট ও সাবেক সৈনিকরা। প্রায় ৭০ মিনিটব্যাপী এ অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধান করবেন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। পশ্চিমা বিশ্ব ও সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি থাকবে এই প্রদর্শনীর দিকে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ‘ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের’ প্রশংসা করেছে এবং বলেছে, দুই দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। ২০১৫ সালের বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়া একজন শীর্ষ কর্মকর্তা পাঠিয়েছিল। এবার কিম নিজে অংশ নিলে তিনি পুতিন ও সি চিন পিংয়ের পাশে বসবেন, যা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একইসঙ্গে কিম জং-উনের সঙ্গেও আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমন অবস্থায় সি চিন পিংয়ের হাতে ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক চাবিকাঠি এসে পড়েছে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। তিনি অংশ নিলে ২০১৯ সালের পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে এটি হবে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। তবে ঝুঁকিও আছে। কিম যদি প্রকাশ্যে লিকে উপেক্ষা বা তিরস্কার করেন, তবে তা তাঁর জন্য বিব্রতকর হতে পারে। পাশাপাশি রাশিয়া, বেলারুশ ও ইরানের নেতাদের পাশে তাঁর ছবি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্যও অস্বস্তিকর হতে পারে।
লি জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি বারবারই কিমের সঙ্গে আলোচনায় বসতে এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরেও ট্রাম্পকে কোরীয় উপদ্বীপে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে উত্তর কোরিয়া তাঁর সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সম্প্রতি সরকারি গণমাধ্যম কেসিএনএ তাঁকে ‘সংঘাতপ্রবণ উন্মাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এখনো দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তাঁর পরিবর্তে একজন অধস্তন রাজনীতিককে পাঠানোর পরিকল্পনাও চলছে।
পশ্চিমা নেতাদের বেশিরভাগই এবারের কুচকাওয়াজে যোগ দিচ্ছেন না। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে তাঁরা ইতিমধ্যে দূরে থাকছেন। জাপানও অন্যান্য দেশকে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au