শিগগিরই চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের…
মেলবোর্ন, ২৯ আগষ্ট- থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্যাথংটার্ন শিনাওয়াত্রাকে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পদচ্যুত করেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এই রায়ে মাত্র এক বছরের মাথায় ক্ষমতা হারালেন তিনি। এর ফলে শিনাওয়াত্রা পরিবারের দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আবারও নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
৩৯ বছর বয়সী প্যাথংটার্ন ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে তরুণ প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রার মেয়ে। মাত্র এক বছর আগে তাঁর পূর্বসূরি শ্রেত্থা থাভিসিনকে একই আদালত বরখাস্ত করার পর হঠাৎ করেই আলোচনায় আসেন তিনি।
আদালতের রায়ে বলা হয়, চলতি বছরের জুনে একটি ফাঁস হওয়া টেলিফোন আলাপে প্যাথংটার্ন কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের কাছে ‘নতি স্বীকার’ করেন। সে সময় দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কয়েক সপ্তাহ পর সেখানে পাঁচ দিনের লড়াইও হয়। আদালতের মতে, এই আচরণ নৈতিকতা লঙ্ঘনের শামিল।
রায়ের ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ খুলেছে। তবে এ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। প্যাথংটার্নের দল ফেউ থাই এখন সংসদে ভঙ্গুর জোট ধরে রাখার চাপে পড়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে সরকার পরিচালনা করবেন উপপ্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ভেচায়াচাই এবং বর্তমান মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য পাঁচজনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ফেউ থাই দলের পক্ষ থেকে রয়েছেন ৭৭ বছর বয়সী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল চাইকাসেম নিটিসিরি। তিনি রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় নন। আলোচনায় আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেনা অভ্যুত্থানের নেতা প্রাইউথ চান-ও-চা এবং উপপ্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, যিনি ফাঁস হওয়া কলের পর প্যাথংটার্নের জোট থেকে সরে যান।
প্যাথংটার্ন এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।
গত ১৭ বছরে এটি সাংবিধানিক আদালতের রায়ে বরখাস্ত হওয়া পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করে থাইল্যান্ডের নির্বাচিত সরকার ও সেনাবাহিনী–রক্ষণশীল গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতার লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়টায় থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ধুঁকছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অনেকের ধারণা, নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে দেরি হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au