জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জম্মু ও কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলের অনন্তনাগ জেলায় সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।…
মেলবোর্ন, ৩০ আগষ্ট- “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর; আমার হাতে সংবিধান; আমার গায়ে হাত তুলবেননা”— চিৎকার দিয়ে বলছিলেন প্রফেসর কার্জন, দু’হাত তুলে, সংবিধানের কপি দেখিয়ে মবের উদ্দেশ্য; লাভ হয়নি কিছু; সাংবাদিক পান্নাও ছিলেন সেখানে; তিনিও হাত তুলে জানান দিচ্ছিলেন অসুরের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ; প্রায়ই তিনি টক-শো’তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংবিধান এসব নিয়ে কথা বলেন; এ কারনেই আজ এ পরিণতি; কার্জনের হাতের সংবিধানকে জ্বালিয়ে, পান্নার বিদ্রোহকে নির্মূল করে পাকিস্তানী রাজাকারীয় দর্শন প্রতিষ্ঠার জন্যই আজকের মবসন্ত্রাসী জঙ্গিরা তাঁদের দু’জনসহ সম্প্রতি বাংলাদেশের পনেরো থেকে আঠারো জন মুক্তিযোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে; এ ঘটনা দেশের মুক্তিযুদ্ধপন্থী শক্তির ওপর আরেকটি দুঃখজনক আঘাত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইলো। চরম বিস্ময়ের বিষয় হলো—যারা মবের হাতে আহত হয়েছেন, তাঁদেরই পরে “সন্ত্রাসবিরোধী আইনে” গ্রেপ্তার করা হয়েছে; অথচ হামলাকারীরা রয়ে গেছে অক্ষত। এ ঘটনা স্পষ্ট করে দেয়, কীভাবে ধীরে ধীরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধপন্থী শক্তির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করছে—যার ঐতিহাসিক প্রতিধ্বনি রয়েছে ১৯৭১-এর অভিজ্ঞতায়।
১। মব সহিংসতা: প্রতিপক্ষ দমনের অস্ত্র
বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে মব সহিংসতার ব্যবহার নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা তাদের স্থানীয় দোসর—রাজাকার, আলবদর ও আলশামস—দিয়ে ভয়ঙ্করভাবে বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, অধ্যাপক ও সংস্কৃতিকর্মীদের টার্গেট করেছিল। মুক্তিকামী জাতির চেতনাকে ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল সেই অভিযানের চূড়ান্ত প্রকাশ।
আজকের মব—মৌলবাদী, স্বাধীনতাবিরোধী এবং সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত—সেই একই কৌশল পুনরাবৃত্তি করছে। মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের আক্রমণের মাধ্যমে তারা স্বাধীনতার চেতনাকে বহনকারী কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করতে চায়। অথচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার পরিবর্তে এই কণ্ঠগুলোকেই এখন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। “সন্ত্রাসবিরোধী আইন” দিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো এক ভয়াবহ উল্টে যাওয়া—যেখানে মুক্তিযোদ্ধা ও অধ্যাপককে বলা হচ্ছে “সন্ত্রাসী,” আর প্রকৃত হামলাকারীরা রয়ে যাচ্ছে নিরাপদে।
চার্লস টিলি একবার বলেছিলেন, “সহিংসতা হলো রাজনীতির চূড়ান্ত রূপ।” আজকের প্রেক্ষাপটে সহিংসতা কেবল ভয় দেখানোর হাতিয়ার নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টানোর মাধ্যম—কে “রক্ষক” আর কে “শত্রু,” তার সংজ্ঞা নতুন করে লিখে দেওয়ার পদ্ধতি।
২। নীরবতার বিশ্বাসঘাতকতা: ১৯৭১ থেকে ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাসে নীরবতা অনেক সময় রক্তাক্ত পরিণতির কারণ হয়েছে। ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানি সেনারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করছিল, তখনও কিছু বুদ্ধিজীবী প্রকাশ্যে বা নীরবে দখলদার বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ এমনকি বিবৃতি দিয়েছিলেন পাকিস্তানি হানাদারদের সমর্থনে। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো—চৌদ্দই ডিসেম্বরের রাতে আলবদর বাহিনী যেসব অধ্যাপক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে ধরে নিয়ে যায়, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনও ছিলেন যারা যুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তানি সেনাদের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরাও হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা পাননি।
আজকের “ইউনিভার্সিটি নেটওয়ার্ক” এর “বিখ্যাত” শিক্ষকদের নীরবতা সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। তাঁদের অনেকেই অতীতে আওয়াজ তুলেছিলেন—“আসমান কাঁপবে” বলে; অতীতে আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। অথচ আজ মুক্তিযোদ্ধা, সহকর্মী অধ্যাপক ও সাংবাদিকদের ওপর মব হামলার প্রতিবাদে তাঁরা চুপ। যখন সংবিধান আক্রান্ত, স্বাধীনতার প্রতীক আক্রান্ত, তখন তাঁদের মানববন্ধন নেই, বিবৃতি নেই, প্রতিবাদ নেই।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই নীরব শিক্ষকদের কারো কারো ছবি আজকাল দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধীদের তৈরী তথাকথিত “জুতা-মারা লিস্টে”—অর্থাৎ যেসব তালিকায় জনগণের “ক্ষোভ” প্রতিফলিত হয় বলে বলা হচ্ছে। অথচ এঁদেরই কেউ কেউ কয়েকদিন আগেও মব-সমর্থক ড. ইউনুসকে শর্তহীন সমর্থন দিতে আহ্বান করেছিলেন। আজ যখন তাঁদের সহকর্মী আক্রান্ত, তখন তাঁরা সুবিধাবাদের চরম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অ্যান্টোনিও গ্রামশি বলেছিলেন, সমাজে হেজেমনি প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্যকে বৈধতা দেয়। সেটিই এখন ঘটছে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে—নীরবতার শেষ পরিণতি ভয়াবহ। যেমন ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানপন্থী বিবৃতিদাতারাও বাঁচতে পারেননি, তেমনি আজকের নীরবদেরও একদিন মব আঘাত করবে।
৩। কিছু ঘটনা ও পর্যবেক্ষনঃ
৪। আন্তর্জাতিক মিল: প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি একা নয়; বিশ্ব ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে মুক্তি-সংগ্রামের পর প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান।
ইরানের ঘটনা নিয়ে আরেকটু বিবরণ দেয়া যেতে পারে।
৫। ইরান: বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন, পরবর্তী নীরবতা—আর তার পরিণাম
ইরানের ঘটনাটির প্রতিফলন দেখা যায় ইতিহাসের আরো কিছু পর্বে।
৬। কেন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি বুদ্ধিজীবীদের টার্গেট করে — প্রমাণিত ধারা
হিটলার-মুসোলিনি থেকে ১৯৭১-এর বাংলাদেশ ও খোমেনি-উত্তর ইরান—সর্বত্রই প্রতিক্রিয়াশীল শাসন প্রথমে জ্ঞানক্ষেত্র দখল করে, বই-পাঠ-বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ করে, ভিন্নমত বুদ্ধিজীবীদের জেলে/নির্বাসনে/খুনে ঠেলে দেয়। উদ্দেশ্য একটাই—সমাজের সমালোচনামূলক ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া।
বাংলাদেশ আজ একই ধারা অনুসরণ করছে: মুক্তিযুদ্ধপন্থী শক্তির ওপর আঘাত, প্রতিক্রিয়াশীলদের উত্থান, এবং রাজাকার মতাদর্শকে স্বাভাবিক করা।
৭। গৃহযুদ্ধসদৃশ পরিস্থিতি
আজকের বাংলাদেশ মূলত এক ধরনের গৃহযুদ্ধসদৃশ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক অর্থে নয়, বরং সমাজতাত্ত্বিক অর্থে—“বিভক্ত সার্বভৌমত্বের” পরিস্থিতি। মুক্তিযুদ্ধপন্থী শক্তি (মুক্তিযোদ্ধা, প্রগতিশীল অধ্যাপক, সাংবাদিক) এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি (মৌলবাদী, রাজাকার-উত্তরসূরি নেটওয়ার্ক, সুযোগসন্ধানী এলিট) মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে দেশের আদর্শিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।
হান্না আরেন্ট The Origins of Totalitarianism–এ লিখেছিলেন—সহিংসতাপ্রবণ শাসনব্যবস্থা বৈধতা ও অবৈধতার সীমানা মুছে দেয়; ভুক্তভোগীদের অপরাধী বানায়, আর অপরাধীদের ছাড় দেয়। আমরা আজ ঠিক সেটিই দেখছি: রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ব্যবহৃত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহকদের বিরুদ্ধে, আর হামলাকারীরা পাচ্ছে অব্যাহতি।
ব্যারি পোজেন তাঁর “Fragmented Sovereignty” ধারণায় দেখিয়েছেন, যখন রাষ্ট্র দ্বিখণ্ডিত ক্ষমতার মধ্যে পড়ে, তখন সেটি গৃহযুদ্ধসদৃশ হয়। বাংলাদেশ আজ সেই অবস্থার কাছাকাছি।
উপসংহার: প্রতিরোধের ডাক
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি এক বৃহত্তর কৌশলের অংশ। মব সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় নীরবতা, এবং বুদ্ধিজীবী দমনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ধীরে ধীরে রাজাকার মতাদর্শকে স্বাভাবিক করছে। ১৯৭১-এর শিক্ষা স্পষ্ট; অন্যায়ের মুখে নীরবতা কেবল নির্যাতনকারীকে শক্তিশালী করে। স্বাধীনতার চেতনা রক্ষার জন্য জাতিকে এই ভুক্তভোগী–অপরাধী উল্টোপাল্টাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে, মব ও তাদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, এবং একবিংশ শতকে রাজাকার শাসনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
পূর্ণ রেফারেন্স তালিকা
১. Canfora, L. (1990). The vanished library: A wonder of the ancient world. University of California Press.
২. Gibbon, E. (1776–1789). The history of the decline and fall of the Roman Empire (Vols. 5–6).
৩. Lewis, B. (2002). The Arabs in history. Oxford University Press.
৪. Gutas, D. (1998). Greek thought, Arabic culture: The Graeco-Arabic translation movement in Baghdad and early ‘Abbasid society. Routledge.
৫. Thapar, R. (2004). Early India: From the origins to AD 1300. University of California Press.
৬. Digby, S. (1971). War-horse and elephant in the Delhi Sultanate: A study of military supplies. Oxford University Press.
৭. Chattopadhyaya, D. (1977). Science and society in ancient India. People’s Publishing House.
৮. Marshall, J. (1940). The monuments of Sanchi. Government of India.
৯. Morgan, D. (1986). The Mongols. Blackwell Publishing.
১০. Lyons, J. (2009). The house of wisdom: How the Arabs transformed Western civilization. Bloomsbury Press.
১১. Menocal, M. R. (2002). The ornament of the world: How Muslims, Jews, and Christians created a culture of tolerance in medieval Spain. Little, Brown.
১২. Watt, W. M. (1965). A history of Islamic Spain. Edinburgh University Press.
১৩. Coe, M. D. (2005). The Maya. Thames & Hudson.
১৪. Restall, M. (2003). Seven myths of the Spanish conquest. Oxford University Press.
১৫. Afary, J., & Anderson, K. B. (2005). Foucault and the Iranian revolution: Gender and the seductions of Islamism. University of Chicago Press.
১৬. Abrahamian, E. (2008). A history of modern Iran. Cambridge University Press.
১৭. Axworthy, M. (2013). Revolutionary Iran: A history of the Islamic Republic. Oxford University Press.
১৮. Shirer, W. L. (1960). The rise and fall of the Third Reich. Simon & Schuster.
১৯. Paxton, R. O. (2005). The anatomy of fascism. Vintage.
২০. Forgacs, D. (Ed.). (2000). The Antonio Gramsci reader: Selected writings, 1916–1935. NYU Press.
২১. Rummel, R. J. (1998). Statistics of democide: Genocide and mass murder since 1900. Routledge.
২২. Bose, S. (2011). Dead reckoning: Memories of the 1971 Bangladesh war. Hurst.
২৩. Jahan, R. (1972). Pakistan: Failure in national integration. Columbia University Press.
২৪. Mookherjee, N. (2015). The spectral wound: Sexual violence, public memories, and the Bangladesh war of 1971. Duke University Press.
২৫. Tilly, C. (2003). The politics of collective violence. Cambridge University Press.
২৬. Gramsci, A. (1971). Selections from the prison notebooks. International Publishers.
২৭. Arendt, H. (1951). The origins of totalitarianism. Harcourt.
২৮. Bevins, V. (2020). The Jakarta method: Washington’s anticommunist crusade and the mass murder program that shaped our world. PublicAffairs.
২৯. Posen, B. R. (1993). The security dilemma and ethnic conflict. Survival, 35(1), 27–47. https://doi.org/10.1080/00396339308442672
৩০. Association for Iranian Studies. (n.d.). About the organization. Retrieved from https://en.wikipedia.org/wiki/Association_for_Iranian_Studies
৩১. American Association of University Professors (AAUP). (n.d.). About AAUP. Retrieved from https://en.wikipedia.org/wiki/American_Association_of_University_Professors
৩২. PBS Frontline. (2009, December 14). The chain murders: Killing dissidents and intellectuals, 1988–1998. Retrieved from https://www.pbs.org/wgbh/pages/frontline/tehranbureau/2009/12/the-chain-murders-1988-1998.html
৩৩. IranWire. (2018, November 30). The chain murders of dissidents. Retrieved from https://iranwire.com/en/features/65674
৩৪. Radio Free Europe/Radio Liberty (RFE/RL). (2020, December 12). Two decades later, still no justice for Iran’s ‘chain murders’ of intellectuals. Retrieved from https://www.rferl.org/a/two-decades-later-still-no-justice-for-iran-chain-murders-of-intellectuals/30997536.html
৩৫. United States Holocaust Memorial Museum. (n.d.). Nazi book burnings. In Holocaust Encyclopedia. Retrieved from https://encyclopedia.ushmm.org/content/en/article/book-burning
৩৬. NSDoku München. (n.d.). The book burnings in Germany and in Munich. Retrieved from https://www.nsdoku.de/en/historic-site/koenigsplatz/book-burnings-1933
৩৭. EBSCO. (n.d.). Nazi book burnings. Research Starters: History. Retrieved from https://www.ebsco.com/research-starters/history/nazi-book-burnings
৩৮. Stanford Encyclopedia of Philosophy. (2023). Antonio Gramsci. Retrieved from https://plato.stanford.edu/entries/gramsci/
৩৯. Encyclopedia Britannica. (n.d.). Gramsci, Antonio. Retrieved from https://www.britannica.com/biography/Antonio-Gramsci
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au