সর্বশেষ

শিল্পের স্বাধীনতা বনাম কালচারাল ফ্যাসিবাদ

  • 7:23 am - August 31, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৭১ বার
কবি সাম্য রাইয়ান। গ্রাফিক্সঃ ওটিএন বাংলা

কালচারাল ফ্যাসিস্ট প্রসঙ্গটি কেবল আমাদের স্থানীয় অভিজ্ঞতার বিষয় নয়, বরং এটি এক আন্তর্জাতিক বাস্তবতা। ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকে থাকার জন্য বৈধতা হারায়, তখন তারা সংস্কৃতির দিকে হাত বাড়ায়। মুসোলিনি থেকে হিটলার পর্যন্ত-সবারই এক অভিন্ন নীতি ছিল: শিল্প হবে রাষ্ট্রের সেবক, সাহিত্য হবে শাসকের প্রশংসা গান। জার্মানিতে নাৎসি শাসন কবি ও শিল্পীদের ‘ডিজেনারেট’ বলে চিহ্নিত করেছিল, তাদের বই আগুনে পোড়ানো হয়েছিল।

এই অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে, কালচারাল ফ্যাসিস্টের মূল হাতিয়ার হলো বৈচিত্র্যের ধ্বংস। তারা শিল্পকে যেভাবে কেটে-ছেঁটে ফেলে, তাতে মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রাণশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। কিন্তু শিল্প-সাহিত্য এক ধরনের অরণ্যের মতো—যেখানে একই সঙ্গে অশ্বত্থ, বট, নিম আর কাশফুল বেড়ে ওঠে। কালচারাল ফ্যাসিস্ট চায় না এই বৈচিত্র্য, তারা চায় সমতল মাঠ, যেখানে কেবল তাদের রোপণ করা গাছ থাকবে।

আজকের পৃথিবীতেও এই প্রবণতা থেমে নেই। পাশ্চাত্যে ‘কালচারাল ওয়ার’ নামে নতুন এক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। বই নিষিদ্ধকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য পরিবর্তন, ‘অপছন্দের শিল্প’ বাতিল করা—এসবের ভেতরেও কালচারাল ফ্যাসিবাদের রেশ পাওয়া যায়। আমাদের দেশেও দেখা যায়—কোনো নাটক মঞ্চস্থ হতে না দেওয়া, কোনো গানকে ‘অপসংস্কৃতি’ ঘোষণা করা, কিংবা কোনো লেখককে চুপ করিয়ে দেওয়া। এগুলো সব একই ধারার অংশ।

তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ষড়যন্ত্রমূলক উল্টোপথে নাম দেওয়া। অনেক সময় প্রকৃত কালচারাল ফ্যাসিস্টরাই তাদের সমালোচকদের ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’ বলে চিহ্নিত করে। ফলে যে ব্যক্তি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়ছে, তাকেই অভিযুক্ত করা হয় দমননীতির দায়ে। এই বিভ্রান্তি পরিকল্পিত, যাতে মানুষ আর প্রকৃত শত্রুকে চিনতে না পারে। ঠিক যেমন রাজনীতিতে ভুয়া অভিযোগ ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন করা হয়, সংস্কৃতিতেও একই কৌশল ব্যবহৃত হয়।

তাই আমাদের দায়িত্ব হলো দ্বিগুণ সতর্ক হওয়া। একদিকে আমাদের প্রতিরোধ গড়তে হবে সেই শক্তির বিরুদ্ধে, যারা সংস্কৃতিকে বন্দি করতে চায়। অন্যদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, যেন ভুল মানুষকে কালচারাল ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া না হয়। ভুল আঙুল তোলা মানে আসল বিপদের পথ খুলে দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত সংস্কৃতি আমাদের মুক্তির জায়গা, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে গান গায়, কবিতা লেখে, নাটক মঞ্চস্থ করে, গল্প শোনায়। কালচারাল ফ্যাসিস্ট চায় সেই স্বাধীনতার মৃত্যু। তাই তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে কেবল শিল্পের পক্ষে দাঁড়ানো নয়, বরং মানবমুক্তির পক্ষে দাঁড়ানো।

লেখক- কবি-প্রাবন্ধিক ও লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক।

এই শাখার আরও খবর

ভয়াল সেই ভোররাতে ছোট বোনকে ফোন করেছিলেন গণপতির স্ত্রী, রিসিভ না করলেও ২ দিন খোঁজ নেয়নি পূজা

রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন এবং শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা…

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের উপস্থিতি কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।…

পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি, মৃত্যু নিশ্চিত করতে কুপিয়ে হত্যা

পাবনার আটঘরিয়ায় আদম আলী (৬০) নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার…

শেখ হাসিনা কি আবারও বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন?

২৪ এর আন্দোলনে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিন, গত ৫ আগস্ট ভারত থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ঘোষণা করেন, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে…

রংপুরের চার খুন: তদন্তের কেন্দ্রে এখন পুলিশ কর্মকর্তা মাবুদ ও সনাতন

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আর শুধু কে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগমী ও ১২ বছরের ছেলে…

‘জিস্‌ম’ করার পর কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে, বিপাশা

২০০১ সালে ‘অজনবী’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় বিপাশা বসুর। এরপর ‘রাজ’-এর মতো একাধিক সফল সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। তবে ২০০৩…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au