শিগগিরই চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের…
মেলবোর্ন, ১ সেপ্টেম্বর- আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া বাড়িঘরের কারণে শত শত মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬। স্থানীয় সময় রোববার (৩১ আগস্ট) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে এটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল নানগারহার প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদ শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল মাত্র ৮ কিলোমিটার (৫ মাইল), যা বিপর্যয়কে আরও মারাত্মক করেছে। এরপর অন্তত তিনটি আফটার শক অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ২।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) সতর্ক করেছে, এই ভূমিকম্পে “বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি” এবং “বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা” রয়েছে। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা কয়েকশ’ ছাড়াতে পারে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে বহু গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলার মাজার উপত্যকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এই পাহাড়ি অঞ্চলে ঘরবাড়ি ভূমিকম্প সহনশীল নয়। ফলে বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছেন।
তালেবান সরকারের একাধিক সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, গভীর রাতে ভূমিকম্পে বহু মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় হতাহত হন। “পুরো গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে,” বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুনার প্রদেশের পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, প্রবল বন্যা ও ভূমিকম্প-পরবর্তী ভূমিধসে সড়কপথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই উদ্ধারকাজ স্থলপথে সম্ভব হচ্ছে না, শুধুমাত্র আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালানো যাবে। তালেবান কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের হাতে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। তাই হেলিকপ্টারসহ আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাছে জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রতিটি ঘণ্টা পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে আফগান রাজধানী কাবুলও কেঁপে ওঠে, যা কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও কম্পন অনুভূত হয়।
আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এটি ভারত ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় প্রায়ই বড় ধরনের কম্পনের শিকার হয়। গত তিন দশকে কেবল ভূমিকম্পেই দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
১৯৯১ সালে হিন্দুকুশ অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রাণহানি হয়েছিল ৮৪৮ জনের। ১৯৯৭ সালে সীমান্তবর্তী ইরানের খোরাসান প্রদেশে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি। ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানের তাখার প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারান, যার মধ্যে ২ হাজার ৩০০ জন ছিলেন আফগান নাগরিক।
তালেবান সরকারের দাবি, এবারকার ভূমিকম্পও সেই ভয়াবহতা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ দুর্গম অঞ্চলগুলোতে এখনো কোনো যোগাযোগ নেই, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বহু মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au