ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন, ১ আগষ্ট- চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবমণ্ডলের বাইরে থাকা শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনে তিনি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, যৌথভাবে “বৃহৎ পরিসরের বাজার” কাজে লাগিয়ে নতুন বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে আসছেন যে চীন–রাশিয়ার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলে তা ঝুঁকি তৈরি করবে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শি জিনপিংয়ের নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, চীন–রাশিয়ার সম্মিলিত শক্তি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশের নেতাদের উদ্দেশে শি বলেন, এই সংস্থা “নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মডেল” উপস্থাপন করছে। তাঁর বক্তব্য মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক বাজার অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে দেওয়া।
শি জিনপিং বলেন, “আমাদের সমান ও শৃঙ্খলাপূর্ণ বহুমেরুবাদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং একটি ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।” তিনি জ্বালানি, অবকাঠামো, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান।
পুতিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, এসসিও “আসল বহুপাক্ষিকতাকে” পুনরুদ্ধার করেছে। তিনি জানান, এই প্রক্রিয়া ইউরেশিয়ায় নতুন স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ভিত্তি স্থাপন করবে। তাঁর মতে, এই নিরাপত্তা কাঠামো ইউরোপকেন্দ্রিক বা ইউরো-আটলান্টিক ধাঁচের বিপরীতে বিস্তৃত পরিসরের দেশগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় নেবে এবং কোনো একক দেশকে অন্যের ক্ষতির বিনিময়ে নিরাপত্তা অর্জনের সুযোগ দেবে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এসসিও বর্তমানে ১০টি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র ও ১৬টি সংলাপ ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র নিয়ে বিস্তৃত হয়েছে।
শি আরও বলেন, “আমাদের শীতল যুদ্ধের মানসিকতা ও গোষ্ঠীগত মুখোমুখি অবস্থানের বিরোধিতা করতে হবে।” চীন এ বছর এসসিও সদস্যদের জন্য ২ বিলিয়ন ইউয়ান (২৮ কোটি ডলার) বিনামূল্যের সহায়তা এবং আরও ১০ বিলিয়ন ইউয়ান ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বৈশ্বিক বহুপাক্ষিকতার পক্ষে চীনের অবস্থানকে “মূলগত” বলে বর্ণনা করেন।
ব্রিকস ও ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান
অন্যদিকে, ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা সহ ১১ উদীয়মান দেশ) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্কনীতির সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একইসঙ্গে ব্রিকস সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
চীনের ‘বিজয় দিবস’ প্যারেডে শক্তির প্রদর্শন
এই সব কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে চীন এই সপ্তাহে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয় উদ্যাপন উপলক্ষে ৮০তম “বিজয় দিবস” প্যারেড আয়োজন করছে। এতে অংশ নেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনও। এটি হবে কিমের প্রথম আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিমকে “প্রচলিত বন্ধু” হিসেবে বর্ণনা করে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গভীর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
তিয়ানআনমেন স্কয়ারে অনুষ্ঠিতব্য এই ৭০ মিনিটের সামরিক কুচকাওয়াজে দশ হাজারেরও বেশি সৈন্য অংশ নেবে, যা চীনের সামরিক শক্তির বড় প্রদর্শনী হয়ে উঠবে।
সুত্রঃ নিউজ ডট কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au