এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কমল ৩৫৭ টাকা
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি…
মেলবোর্ন, ২ সেপ্টেম্বর- আফগানিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৮০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৮০০ জন। সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে বড় বাধার মুখে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রোববার স্থানীয় সময় মধ্যরাতে আঘাত হানা রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও নাঙ্গারহার প্রদেশ। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, শুধু কুনারেই ৬১০ জন নিহত হয়েছেন। কুনারের তিনটি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
কাবুলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। আমাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।”
জালালাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জিয়াউল হক মুহাম্মাদি ভূমিকম্পের সময় পড়াশোনা করছিলেন। তিনি বলেন, “আমি দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও কাঁপুনিতে পড়ে যাই। পুরো রাত আতঙ্কে কাটিয়েছি, ভেবেছি আবার যে কোনো সময় ভূমিকম্প হতে পারে।”
পাহাড়ি এলাকায় কাদামাটির ঘরগুলো একে একে ধসে পড়েছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এসব অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং টানা বৃষ্টিতে ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যালয় (UNOCHA) জানায়, অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ।ছবিঃ আল জাজিরা
উদ্ধার তৎপরতা
আফগান সামরিক বাহিনী জানায়, উদ্ধারকারী দলগুলো বিমানযোগে ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪০টি উড়োজাহাজে করে ৪২০ জন আহত ও মৃতদেহ সরানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থানীয় মানুষও হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।
একজন বেঁচে যাওয়া গ্রামবাসী বলেন, “এটা নুরগাল জেলার মাজার দারা। পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। শিশু ও বৃদ্ধরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। আমাদের জরুরি সাহায্য প্রয়োজন।”
আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তালেবান সরকার বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখনো কোনো বিদেশি সরকার সরাসরি উদ্ধার বা ত্রাণ কার্যক্রমে হাত বাড়ায়নি। আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু ভারত ১ হাজার পরিবারের জন্য টেন্ট এবং ১৫ টন খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছে। চীনও আফগানিস্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। পোপও নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।
তহবিল সংকট ও মানবিক বিপর্যয়
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক সহায়তার বড় অংশ হারিয়েছে। নারী অধিকার ও নারী ত্রাণকর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন নীতির কারণে বিদেশি দাতারা অর্থ সহায়তা কমিয়েছে। ২০২২ সালে ৩৮০ কোটি ডলারের সহায়তা পেলেও এই বছর তা কমে মাত্র ৭৬৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি মানুষ বর্তমানে জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে।
আফগানিস্তান হিন্দুকুশ পর্বতমালা এলাকায় অবস্থান করায় ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে অন্তত ১ হাজার মানুষ নিহত হয়। এবারও সেই ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি হলো।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au