ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন ৩ সেপ্টেম্বর– দুই দিনের ব্যবধানে ফের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৫.৫ মাত্রার নতুন কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে রোববার রাতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু গ্রাম। এতে ইতোমধ্যে এক হাজার চারশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তিন হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। ধসে পড়েছে কয়েক হাজার বাড়িঘর। নতুন ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা আগেরটির কাছাকাছি। এর ফলে পাহাড় ধসে অনেক সড়ক বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত বের করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
মানবিক সহায়তা সংস্থা আসিলের কর্মী সাফিউল্লাহ নূরজাই বলেন, “ভূমিকম্পে নতুন করে আরও অনেকে আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।” ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিটি বাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে এখনও জীবিতদের খুঁজছেন। অনেকেই ধসে পড়া ঘরের নিচে চাপা পড়ে আছেন। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ঘর মঙ্গলবারের ভূমিকম্পে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ঘর সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে ।ছবি: সংগৃহীত
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১,৪১১ জন নিহত, ৩,১২৪ জন আহত এবং ৫,৪০০-এর বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জরুরি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার পরিচালক সামিরা সাঈদ রহমান বলেন, “এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবন রক্ষার লড়াই। দূরবর্তী গ্রামগুলো থেকে আহতদের বের করে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও আশ্রয় পৌঁছে দেওয়া জরুরি।”
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও নানগারহার প্রদেশ। দুর্গম গ্রামগুলোতে পৌঁছাতে অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। আহতদের উদ্ধার ও ত্রাণ সরবরাহের জন্য হেলিকপ্টারও ব্যবহার করছে তালেবান প্রশাসন।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, হাজারো শিশু বিপদে পড়েছে। সংস্থাটি ওষুধ, গরম কাপড়, তাঁবু, টারপলিন, সাবান, স্যানিটারি প্যাড, তোয়ালে ও পানির বালতি পাঠানো শুরু করেছে। এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১২,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ায় অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। আফটারশকের আতঙ্ক তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে।
আসিলের নূরজাই আরও বলেন, “মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে, আর পরবর্তী আফটারশকের আতঙ্ক তাদের আরও দুর্ভোগে ফেলছে। খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য এখনই জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।”
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au