রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর ভিসা ফি বাড়াল অস্ট্রেলিয়া
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- অস্ট্রেলিয়া সরকার বিভিন্ন ধরনের ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা আবেদনকারীদের ওপর। ১ জুলাই…
মেলবোর্ন ৪ সেপ্টেম্বর- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসার সম্ভাবনা তিনি কখনোই নাকচ করেননি। তবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হয়, তবে রাশিয়া সামরিক উপায়েই নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করবে।
চীন সফরের শেষ দিনে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে বৈঠকের বিষয়ে বলেছেন। তখন তিনি জবাব দেন—“হ্যাঁ, এটা সম্ভব। জেলেনস্কিকে মস্কোয় আসতে দিন।”
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তির বার্তা নিয়ে মধ্য আগস্টে আলাস্কায় পুতিন ও হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই দুই নেতার মধ্যে মুখোমুখি আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। যদিও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি এখনো।
এদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হতে পারে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা।
পুতিন ইউক্রেন থেকে সামরিক শাসন প্রত্যাহার দাবি করেছেন। পাশাপাশি বিতর্কিত অঞ্চলগুলো নিয়ে গণভোট আয়োজনের কথাও বলেছেন। তবে কিয়েভ বলেছে, নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার মতো কোনো চুক্তি তারা স্বীকার করবে না।
রাশিয়ার দাবি, ২০২২ সালে যেসব অঞ্চলকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মস্কোর হাতে দিতে হবে। আর ইউক্রেন জবাব দিয়েছে, এ দাবি কখনোই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, সাত দেশের পক্ষ থেকে দুই নেতার বৈঠকের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আর জেলেনস্কিও যেকোনো সময় প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু পুতিন জেনেশুনেই এমন প্রস্তাব দিচ্ছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া রাশিয়াকে শান্তিপ্রক্রিয়ার পথে আনা সম্ভব নয়।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন। তবে যুদ্ধ বন্ধে তিনি কোনো বিশেষ বার্তা দেবেন না, কারণ পুতিন ইতিমধ্যে তাঁর অবস্থান জানেন। ট্রাম্প বলেন, “যদি আমরা খুশি হতে না পারি, তাহলে আরও অনেক কিছু ঘটতে পারে।”
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে প্রশংসা করে পুতিন বলেন, তিনি রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি সঠিকভাবে মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
অন্যদিকে জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলাপের প্রত্যাশা করছেন। আজ বৃহস্পতিবারই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ডেনমার্ক সফরকালে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ‘ব্যাকস্টপ’ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা তাঁর দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য ইউরোপীয় জোট প্রস্তুত। বৃহস্পতিবারই ‘ইচ্ছুকদের জোট’ এই পদক্ষেপ অনুমোদন করবে।
চীন সফরে গিয়ে পুতিন আরও বড় জ্বালানি ও অবকাঠামো চুক্তি সই করেছেন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে। একই মঞ্চে অংশ নিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনসহ আরও ২৬ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
পুতিনের ভাষায়—“যদি আলোচনায় সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলো দেখা যায়, তবে শান্তিচুক্তি হতে পারে। কিন্তু যদি তা না হয়, আমাদের সবকিছু সামরিক উপায়েই সমাধান করতে হবে।”
ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ তাই আবারও দাঁড়িয়েছে অচলাবস্থার মুখে—একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা, অন্যদিকে সামরিক হুমকির ছায়া।
সুত্রঃআল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au