ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন ৫ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রায়ের মধ্য দিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি তহবিল স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন ফেডারেল বিচারক অ্যালিসন বারোজ। ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা এই সিদ্ধান্তে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বেশি তহবিল আটকে যায়, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, বিশ্ববিদ্যালয়টি গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ চলাকালে ইহুদি ও ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এর জেরে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ইহুদিবিদ্বেষ ও পক্ষপাতের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।
তবে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ, ভর্তি এবং শিক্ষাক্রমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারই প্রচেষ্টা।
তহবিল স্থগিতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বাধার মুখে পড়ে। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা গবেষণা খাতে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবন সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।
হার্ভার্ডের করা আপিলের ভিত্তিতে বিচারক বারোজ স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রশাসনের তহবিল স্থগিতের সিদ্ধান্ত মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে। তাই কেবল এই পদক্ষেপ বাতিলই নয়, ভবিষ্যতেও ইহুদিবিদ্বেষকে অজুহাত দেখিয়ে হার্ভার্ডের তহবিল বন্ধ করা যাবে না বলে রায়ে উল্লেখ করেন তিনি।
হার্ভার্ড প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্বার রায়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাসংক্রান্ত স্বাধীনতার বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন— “আজকের রায়ে আমরা আমাদের মৌলিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা পেলাম।”
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লিজ হাস্টন আদালতের সিদ্ধান্তকে “ভয়াবহ” বলে আখ্যা দেন এবং দ্রুত আপিলে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবানি ল স্কুলের অধ্যাপক রে ব্রেসিয়া এএফপিকে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে হার্ভার্ড বিশাল জয় পেয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে।”
এই রায়ের মাধ্যমে শুধু হার্ভার্ড নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার স্বাধীনতা রক্ষায় বড় ধরনের আইনি স্বীকৃতি পেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au