সর্বশেষ

গ্রামের শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য নিজের বাড়ি স্কুলকে দিয়ে দিলেন কৃষক

  • 3:26 am - September 06, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৯০ বার
“নিজে ঝুপড়িতে থেকেও গ্রামের শিশুদের জন্য বাড়ি ছাড়লেন কৃষক মোর সিং।ছবি : বিবিসি

মেলবোর্ন, ৬ সেপ্টেম্বর- ভারতের রাজস্থান রাজ্যের পাহাড়ি গ্রাম পিপলোডির কৃষক মোর সিং (৬০) আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কোনোদিন স্কুলে না পড়লেও তিনি নিজের দুই কক্ষের সাধারণ বাড়ি গ্রামের স্কুলের জন্য দান করেছেন। শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে উঠে এসেছে তার এই মহৎ উদ্যোগ।

গত ২৫ জুলাই প্রবল বর্ষণে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে পড়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয় এবং আহত হয় আরও ২১ জন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপরই মোর সিং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন—নিজের বাড়িটি শিশুদের হাতে তুলে দেবেন।

তার বাড়িতেই এখন চালু হয়েছে একটি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বাড়িটি ছেড়ে মোর সিং ও তার পরিবার কয়েক মিটার দূরে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঝুপড়িতে বসবাস শুরু করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, এটি “আদর্শ বাসস্থান নয়”, তবুও শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য তিনি এই ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

মোর সিং বলেন, “আমি যদি দ্রুত এই সিদ্ধান্ত না নিতাম, অনেক শিশু স্কুল ছেড়ে দিত। পাশের গ্রামে একটি স্কুল আছে, কিন্তু সেখানে পৌঁছতে পাহাড়ি পথে দুই কিলোমিটার হাঁটতে হয়। বড়রা পারলেও ছোটরা তা পারত না।”

রাজস্থান রাজ্যের স্কুল অবকাঠামোর ভঙ্গুর অবস্থা এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি জরিপ অনুযায়ী, রাজ্যে অন্তত ৫,৬০০টি স্কুল ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।

মোর সিংয়ের মহৎ উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে রাজ্য সরকার তাকে ২ লাখ রুপি সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি পিপলোডি গ্রামকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় ‘আদর্শ গ্রাম’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নতুন স্কুল ভবন, খেলার মাঠ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য সুবিধার জন্য অতিরিক্ত তহবিল আসবে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন স্কুল তৈরি হতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগবে।

গ্রামের প্রায় ৯০টি পরিবার, যাদের বেশিরভাগই আদিবাসী, এখন মোর সিংয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রশংসায় মুখর। দুর্ঘটনায় আহত এক শিশুর বাবা রাম দয়াল বলেন, “তিনি পুরো গ্রামের নায়ক।” আরেক বাসিন্দা রাম কুমার জানান, “যদি তিনি নিজের বাড়ি দিতেন না, অনেক শিশু স্কুল ছেড়ে দিত।”

তিন বছর ধরে যে বাড়ি বানিয়েছিলেন এবং ১৩ বছর ধরে যেখানে পরিবার নিয়ে থাকছিলেন, সেটি এখন গ্রামের শিশুদের জন্য আলো ছড়াচ্ছে। দরিদ্র কৃষক মোর সিংয়ের এ নিঃস্বার্থ উদ্যোগ প্রমাণ করে—শিক্ষার জন্য সবচেয়ে বড় অবদান আসে হৃদয়ের উদারতা থেকে।

সূত্রঃ বিবিসি

 

এই শাখার আরও খবর

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার…

গণপতি পরিবারের ছয়-সাত ভরি স্বর্ণ গেল কোথায়? উদ্ধার সম্ভব নয় কেন বলছে পুলিশ?

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হত্যার…

ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭

বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…

সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…

ভয়াল সেই ভোররাতে ছোট বোনকে ফোন করেছিলেন গণপতির স্ত্রী, রিসিভ না করলেও ২ দিন খোঁজ নেয়নি পূজা

রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন এবং শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা…

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের উপস্থিতি কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au