ইরান যুদ্ধে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মাস্কের এআই ‘গ্রোক’
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে বলে এক আইনি নথিতে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের…
মেলবোর্ন, ৬ সেপ্টেম্বর- ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে এবার নতুন করে ইউরোপকে দায়ী করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রকাশ্যে ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দিলেও শান্তি প্রক্রিয়া বারবার ভেস্তে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ইউরোপকেই দায়ী করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অভ্যন্তরের নীতিনির্ধারকেরা।
গত জুলাইয়ে আলাস্কা সম্মেলনের পর ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের উদ্যোগে নতুন করে গতি আসবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্প অভিযোগ করছেন, ইউরোপ যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না। অন্যদিকে পুতিনও পরপর দুবার আলোচনায় বসা এড়িয়ে গেছেন।
গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘পুতিন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তা আমাদের পক্ষে হবে কি না, এখনই বলা যায় না। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে আমরা তাকে পর্যবেক্ষণ করছি।’
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থায়নের মূল উৎস হলো ইউরোপ। কারণ, ইউরোপ এখনো রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত এক বছরে রাশিয়া ইউরোপে তেল রপ্তানি করে ১.১ বিলিয়ন ইউরো আয় করেছে। ট্রাম্পের দাবি, এই অর্থই মূলত রাশিয়ার যুদ্ধ মেশিনারিকে সচল রাখছে। তাই ইউরোপ যদি সত্যিই শান্তি চায়, তবে প্রথমেই তাদের রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে হবে।
শুধু ইউরোপ নয়, রাশিয়ার অর্থায়নে চীনের ভূমিকাও সামনে এনেছেন ট্রাম্প। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে রাজি নন। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের পর সম্পর্ক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এ সময়ে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে পড়েছে। দেশটির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, ভারত সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে বেইজিং সফর করেছে। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুধু চীনের সঙ্গেই নয়, পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। ফলে ভারতকে চীনের প্রভাবমণ্ডল থেকে দূরে রাখার ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
যদিও ট্রাম্প ইউরোপকে তীব্র সমালোচনা করেছেন, তবু ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একসময় ইউরোপে সবচেয়ে বেশি তেল সরবরাহ করত রাশিয়া। এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ইউরোপের অনেক দেশ ধীরে ধীরে রাশিয়ার তেলের বিকল্প খুঁজছে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের প্রশ্নে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক নতুন উত্তেজনার দিকে মোড় নিচ্ছে। ট্রাম্প যেখানে ইউরোপকে দায়ী করছেন, সেখানে ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, তারা যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা পুরো মহাদেশকে জড়িয়ে রেখেছে এক জটিল দ্বন্দ্বে। ইউক্রেনের মাটিতে যুদ্ধ চলছেই, আর শান্তির পথ বারবার ভেস্তে যাচ্ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au