নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ৮ সেপ্টেম্বর- একসময় ফেসবুকের সবচেয়ে মজার ও আলোচিত ফিচারগুলোর একটি ছিল ‘পোক’। কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কিংবা নিছক মজা করার জন্য ব্যবহারকারীরা একে অপরকে পোক দিতেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ফিচারটি ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীদের চোখের আড়ালে চলে গিয়েছিল। অবশেষে আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে ফেসবুকের এই পুরোনো বাটন।
নতুনভাবে হাজির পোক
সম্প্রতি তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে পোকের ব্যবহার হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। এ কারণেই ফেসবুক এবার এই পুরোনো ফিচারটিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনছে। এখন থেকে ব্যবহারকারীরা সরাসরি বন্ধুদের প্রোফাইলে গিয়ে নতুনভাবে যোগ হওয়া ‘পোক’ বাটনে ক্লিক করেই পোক দিতে পারবেন।
পোক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাপক নোটিফিকেশন পাবেন। শুধু তাই নয়, চাইলে যে কেউ facebook.com/pokes পেজে গিয়ে দেখতে পারবেন কে, কাকে পোক দিয়েছে। এখান থেকে নতুন করে বন্ধুকেও পোক দেওয়া যাবে।
নতুন ফিচারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ‘পোক কাউন্ট’। প্রতিবার পোক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি সংখ্যা যুক্ত হবে এবং এটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে দৃশ্যমান থাকবে। ফলে বোঝা যাবে, কে কাকে কতবার পোক করেছে। চাইলে ব্যবহারকারী কোনো পোক এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ পাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কাউন্ট সিস্টেম তরুণদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কারণ, টিকটক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো অ্যাপগুলোতে যেমন স্ট্রিকস রয়েছে—যা প্রতিদিনের যোগাযোগ ধরে রাখার মাধ্যমে বন্ধুত্বের গভীরতা মাপে—ফেসবুকও ঠিক একইভাবে পোকের মাধ্যমে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আন্তরিকতা তুলে ধরতে চাইছে।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে ফেসবুক প্রথমবারের মতো ‘পোক’ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিল। তখন তারা পোক পেজ খোঁজা সহজ করে এবং বন্ধুর নাম সার্চ করার পর সরাসরি পোক দেওয়ার সুবিধা যোগ করে। মেটার দাবি, এসব ছোট পরিবর্তনের ফলে মাত্র এক মাসের মধ্যে পোক করার পরিমাণ ১৩ গুণ বেড়ে যায়।
তবে ফেসবুক এখনো পর্যন্ত কখনোই স্পষ্ট করে জানায়নি—পোকের আসল উদ্দেশ্য কী। অনেকে বলেন এটি মনোযোগ কাড়ার উপায়, কেউ ব্যবহার করেন মজা করার জন্য, আবার কারও কাছে এটি বিরক্ত করার মাধ্যম।
ফিচারটি নিয়ে তরুণদের উৎসাহ থাকলেও সমালোচনার জায়গাও রয়েছে। ‘দ্য অ্যাংজিয়াস জেনারেশন’ বইয়ের লেখক জন হেইডটের গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একইভাবে, এনওয়াইইউ স্টার্নের গবেষক জ্যাক রাউশের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে স্ন্যাপচ্যাট আগে থেকেই জানত তাদের স্ট্রিকস ফিচারের আসক্তিমূলক প্রভাব রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ফেসবুকের নতুন এই পোক কাউন্টও কি তরুণদের মধ্যে একই রকম আসক্তি তৈরি করবে?
যদিও ফেসবুক এখনো মেটার মূল আয়ের উৎস, তবে তরুণদের ধরে রাখার সংগ্রাম বহুদিনের। ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল কলেজভিত্তিক ‘ফেসবুক ক্যাম্পাস’, কিন্তু ২০২২ সালে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে জেনারেশন জেড প্রজন্মের কাছে ফেসবুককে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে নতুন ডিজাইন ও ফিচারের ওপর জোর দিচ্ছে মেটা।
পোক আবারও ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলে জায়গা করে নিয়েছে। এবার এটি কি সত্যিই তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে, নাকি আগের মতোই কিছুদিনের মধ্যেই হারিয়ে যাবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবে এতটুকু নিশ্চিত, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সক্রিয় রাখতে পুরোনো ফিচারগুলোতেও নতুন আঙ্গিকে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: টেকক্রাঞ্চ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au