লিড নিউজ

কাঠমান্ডুতে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, কারফিউয়ের আওতা বিস্তৃত

  • 12:29 am - September 09, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১২৮ বার
এক আহত পুলিশ সদস্যকে ধরাধরি করে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। কাঠমান্ডুতে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে, ছবি: এএফপি

মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউয়ের আওতা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৪ জনে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।

কাঠমান্ডুর প্রধান জেলা কর্মকর্তা (চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার) ছবিল রিজাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সোমবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে।
প্রথমে বানেশ্বর এলাকায় কারফিউ জারি করা হলেও পরে তা প্রসারিত হয় রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয়—

  • প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন শীতল নিবাস
  • ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবন লায়নচাওর
  • প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বলুয়াটার
  • সিংহ দরবার (সরকারি দপ্তরের প্রধান কার্যালয়)
  • মহারাজগঞ্জ ও আশপাশ এলাকা

কারফিউ চলাকালে চলাফেরা, সমাবেশ, বিক্ষোভ বা ঘেরাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংঘাত এড়াতে নাগরিকদের ঘরে অবস্থান ও সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় সরকারের সিদ্ধান্তে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ার পর। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের দাবি, নেপালের নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করায় সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

যদিও টিকটক, ভাইবার ও আরও তিনটি প্ল্যাটফর্ম সরকারের শর্ত মেনে নিবন্ধিত হওয়ায় সেগুলো এখনো চালু রয়েছে। কিন্তু ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় মাধ্যম বন্ধ থাকায় তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি, রাস্তায় নেমে আসে।

বিক্ষোভের অগ্রভাগে ছিলেন তরুণরা। তাঁদের দাবি—

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুলে দেওয়া
  • দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ

শুরুতে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তা ভেঙে ফেলেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভকারীরা গাছের ডাল ও পানির বোতল নিক্ষেপ করে এবং স্লোগান দিতে দিতে পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ—সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে তরুণদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চাইছে। তাঁদের মতে,

“দুর্নীতি বন্ধ না করে সরকার বরং গণমাধ্যম বন্ধ করছে।”

এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। নাগরিকেরা বাড়িঘরে অবস্থান করছেন।

সরকার বলছে, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখতেই কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভের আগুন থামাতে পারবে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আরও দীর্ঘায়িত হলে আন্দোলন বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পর্যবেক্ষকেরা।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

এই শাখার আরও খবর

নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…

যুক্তরাজ্যে ফিরলেও রাজপরিবারের দায়িত্বে ফিরছেন না হ্যারি-মেগান

যুক্তরাজ্যে প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেলের ফেরার খবরে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই হ্যারি ও মেগানের…

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার…

গণপতি পরিবারের ছয়-সাত ভরি স্বর্ণ গেল কোথায়? উদ্ধার সম্ভব নয় কেন বলছে পুলিশ?

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হত্যার…

ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭

বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…

সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au