নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ১০ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২০ হাজার ৫০৫ জন আত্মহত্যা করেন, যার মধ্যে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশই কিশোরী। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। শহরের তুলনায় গ্রামে এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এ তথ্য উঠে এসেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) জরিপে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে ২০২২–২৩ সালে এ জরিপ পরিচালিত হয়। এতে এক লাখ ৮৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
২০১৬ সালের জরিপে প্রতি লাখে আত্মহত্যার হার ছিল ১৪ দশমিক ৭ জন। সর্বশেষ জরিপে এ হার কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৪। সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম ফজলুর রহমান বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা হয়তো কিছুটা কমেছে, তবে এখনও বহু মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন।
জরিপে দেখা গেছে—
আত্মহত্যার পদ্ধতিতে গলায় ফাঁস সবচেয়ে বেশি (৫০.৯ শতাংশ), এর পরেই রয়েছে বিষপান (৪১.৮ শতাংশ)।
শহরে আত্মহত্যার হার প্রতি লাখে ৭.৯২ শতাংশ, আর গ্রামে তা ১৪.৮ শতাংশ। বিশেষ করে বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে হার সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, বিশ্বে ১৫–২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। পরিবার ও সমাজ থেকে ব্যর্থতা মোকাবিলার শিক্ষা না পাওয়ায় কিশোর-কিশোরীরা দ্রুত ভেঙে পড়ে। অভিভাবকদের সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া, সময় দেওয়া ও প্রয়োজনে চিকিৎসা করানো উচিত।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার বলেন, কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা কম। স্কুল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিলে আত্মহত্যার হার কমানো সম্ভব।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সুপারিশ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিবছর দুই লাখ আট হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সংস্থাটি চারটি পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে—
ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. ক্যাথরিন বোহেম বলেন, “আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। এজন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নীরবতা ও লজ্জার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বোঝাপড়া ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au