ইসরায়েলের হামলার কী জবাব হবে—আরব-ইসলামিক সম্মেলন ডাকল কাতার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর। এ ঘটনায় কাতারের রাজধানী দোহায় এক জরুরি আরব-ইসলামিক সম্মেলন আহ্বান করেছে দেশটির সরকার। আগামী রোববার ও সোমবার অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে ইসরায়েলি হামলা ও তার পরিণতি নিয়ে গভীর আলোচনা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কাতারের কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দোহায় নিহতদের জানাজায় অংশ নেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
শহরের বিখ্যাত শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব মসজিদে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন হামাসের শীর্ষ আলোচক খালিল আল হাইয়ার ছেলে হামান, তাঁর অফিস পরিচালক জিহাদ লাবাদ এবং দেহরক্ষী আহমাদ মামলুক, আবদাল্লাহ আবদেলওয়াদ ও মুমেন হাসসুন।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দোহায় এক ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। লক্ষ্য ছিল হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। যদিও হামাস জানায়, তাদের শীর্ষ নেতারা বেঁচে গেছেন। তবুও এ হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তোলে।
কাতার ও মিসর দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধ থামাতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করে আসছে। হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরও দোহায় অবস্থিত। ফলে হামলার ঘটনা কাতারের সার্বভৌমত্বে সরাসরি আঘাত হেনেছে বলে মনে করছে দেশটির সরকার।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন—
“ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই হামলার মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির সম্ভাবনাকে হত্যা করেছেন।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা চলছে এবং সরকার পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করছে।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কাতারকে সতর্ক করে বলেন, হামাস কর্মকর্তাদের বহিষ্কার বা বিচারের মুখোমুখি না করলে ইসরায়েল ব্যবস্থা নেবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের স্পষ্ট হুমকি আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হামাসকে দোহায় অফিস খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনুরোধেই এবং সেই আলোচনাগুলো আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হয়েছে।
ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের দূত ইয়েচিয়েল লেইটার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—
“এবার ব্যর্থ হলেও পরেরবার আমরা হামাস নেতাদের হত্যা করতে সক্ষম হবো। যেখানেই থাকুক, সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করা হবে।”
তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে এ হামলা থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এ ঘটনায় “অসন্তুষ্ট”। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর তথ্যমতে, হামলার দিন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়, যেখানে ট্রাম্প এ হামলাকে “অযৌক্তিক” বলে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক নিন্দার তোয়াক্কা না করেই ইসরায়েল পরদিনই ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালায়। রাজধানী সানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে চালানো এ হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, কাতারের আহ্বানে দোহায় অনুষ্ঠিতব্য এই জরুরি আরব-ইসলামিক সম্মেলন হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত মোড় ঘোরানোর সূচনা। সম্মেলন থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে, তা এখন গোটা বিশ্ব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।