সন্দেহভাজন হত্যাকারীর ছবি। সুত্রঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- আমেরিকার রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে এফবিআই। তারা সন্দেহভাজন হামলাকারীর দুটি ছবি প্রকাশ করেছে এবং জনসাধারণের কাছে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের বিনিময়ে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারী একবার গুলি ছুড়ে একটি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে পাশের এলাকায় পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শক্তিশালী বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল। এ ছাড়া সন্দেহভাজনের ভিডিও ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
চার্লি কার্ককে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইউটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বক্তৃতা দেওয়ার সময় দূর থেকে ছাদে অবস্থান করে গুলি করা হয়। গুলি তাঁর গলায় বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কয়েক হাজার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন। মুহূর্তেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়, মানুষ দৌড়ে পালাতে গিয়ে কেউ কেউ পড়ে গিয়ে পিষ্ট হন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খালি করে দেওয়া হয় এবং সোমবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একে “একাধিক সক্রিয় অপরাধস্থল” হিসেবে তদন্ত করছে। ইউটাহর গভর্নর স্পেনসার কক্স বলেছেন, “এটি একটি রাজনৈতিক হত্যা। আমাদের রাজ্যের জন্য এটি অন্ধকার দিন, আর জাতির জন্যও এক শোকাবহ দিন।”প্রথমে দুজনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তাদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
কার্কের রাজনৈতিক প্রভাব
চার্লি কার্ক তরুণ রিপাবলিকান ভোটারদের একত্রিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ২০১২ সালে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ নামের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে টার্নিং পয়েন্ট অ্যাকশন গড়ে তোলেন, যা সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কার্ককে মরণোত্তর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা “প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম” দেওয়া হবে।
ট্রাম্প কার্ককে “তাঁর প্রজন্মের মহীরূহ” এবং “সত্য ও স্বাধীনতার শহীদ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, “কার্ক শুধু আমাদের ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেতাতেই সাহায্য করেননি, তিনি গোটা প্রশাসন গঠনে ভূমিকা রেখেছেন।”
হামলার মুহূর্ত

ভাষণ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হন চার্লি কার্ক। ছবিঃ রয়টার্স
হামলার সময় কার্ক তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর আয়োজিত এক বিতর্ক সভায় অংশ নিচ্ছিলেন। তিনি বন্দুক সহিংসতা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে ছিলেন। একজন শ্রোতা তাঁকে আমেরিকায় গত ১০ বছরে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন, “অনেক বেশি।” কিছুক্ষণ পরই দূর থেকে গুলি ছোড়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাডিসন ল্যাটিন বলেন, “গোলার শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে দেখি তাঁর গলা থেকে রক্ত ঝরছে। তখন মনে হচ্ছিল শুধু উনার জীবন নয়, আমাদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়পক্ষই একে “অগ্রহণযোগ্য” ঘটনা বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রাক্তন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ডস বলেন, “চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডে আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
ইয়ং ডেমোক্র্যাটস অব কানেকটিকাট ও ইয়ং রিপাবলিকানস অব কানেকটিকাট এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা রাজনৈতিক সহিংসতার সব রূপকেই প্রত্যাখ্যান করি। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এ ধরনের ঘটনার কোনো স্থান নেই।”

আমেরিকার রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কার্ক। ছবিঃ এপি
রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ছে। এ বছর জুনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে এক আইনপ্রণেতা ও তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়, কলোরাডোয় হামাসের জিম্মি মুক্তির দাবিতে একটি প্যারেডে অগ্নিবোমা হামলা হয়, পেনসিলভানিয়ার গভর্নরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল গত বছর নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ।
চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডকে সেই ধারাবাহিক রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়াবহ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃ নাইন নিউজ ও রয়টার্স